শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

বিশ্বে নতুন ধনকুবের ১০ লাখ, সবচেয়ে বেশি বৈষম্য আমিরাত ও রাশিয়ায়

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধনকুবের বা মিলিওনেয়ারের সংখ্যা। তবে এর বিপরীতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধনীদের অর্থনৈতিক ব্যবধান তথা সম্পদ বৈষম্য আরও তীব্র হচ্ছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক নামী ব্যাংক ইউবিএস-এর সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট’ বা বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

১৭তম বারের মতো প্রকাশিত এই বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্পদ সৃষ্টি এবং এর বণ্টনের একটি বিশদ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বজুড়ে মানুষের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধির হার গত ২০২৩ ও ২০২৪ সালের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রধান ইকবাল খান জানান, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির রূপান্তর, প্রযুক্তির বিকাশ এবং বাজারগুলোতে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগই এই বড় প্রবৃদ্ধির মূল কারণ।

দৈনিক নতুন কোটিপতি ২৬০০ জন

মার্কিন ডলারকে মানদণ্ড ধরে করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মানুষ নতুন করে কোটিপতির (কমপক্ষে ১০ লাখ ডলারের সম্পদ) তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। সেই হিসাবে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নতুন ধনকুবের হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।

আবাসন মূল্যে ভাগ্যবদল, কমেছে মিডিয়ান ওয়েলথ

উচ্চ আয়ের মানুষদের বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রকৃত অর্থনৈতিক অবস্থা বুঝতে অর্থনীতিবিদরা গড় মধ্যক সম্পদ বা ‘মিডিয়ান ওয়েলথ’ হিসাব করে থাকেন। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ধনীদের সম্পদ বাড়লেও অধিকাংশ দেশে সাধারণ মানুষের এই মিডিয়ান ওয়েলথের পরিমাণ কমেছে।

এই তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়ামের পরেই রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির অর্থনীতিবিদ সল এসলেক জানান, অন্য উন্নত দেশের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় সম্পদ বণ্টন কিছুটা সুষম হলেও মধ্যবিত্ত ও ধনীদের ব্যবধান সেখানেও স্পষ্ট। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে গড় পারিবারিক সম্পদ মিডিয়ান সম্পদের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি।

ইউবিএস স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন ধনকুবেরদের বেশির ভাগের ব্যাংকেই যে লাখ লাখ নগদ ডলার রয়েছে, তা নয়। মূলত নিজেদের থাকার বাড়ি বা আবাসন সম্পত্তির (ওনার-অকুপাইড প্রপার্টি) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। ফলে কাগজে-কলমে সম্পদ বাড়লেও তাদের প্রকৃত ব্যয়যোগ্য আয় (ডিসপোজেবল ইনকাম) বাড়েনি।

সম্পদ বৈষম্যের শীর্ষে যারা

কোনো দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য পরিমাপের আন্তর্জাতিক সূচক ‘জিনি কোএফিশিয়েন্ট’ বা জিনিসূচক (মান ০ থেকে ১) বিশ্লেষণ করেছে ইউবিএস। সূচকের মান ১-এর যত কাছাকাছি হয়, বৈষম্য তত প্রকট ধরা হয়।

প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ৫৬টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বৈষম্যের দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান পেয়েছে স্লোভাকিয়া। এর বিপরীতে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক বৈষম্য দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায়।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় এই সূচক কিছুটা কমে শূন্য দশমিক ৫৩-এ নেমে আসায় সেখানে বৈষম্য সামান্য হ্রাস পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, একটি রাষ্ট্র একই সঙ্গে চরম ধনী এবং চরম বৈষম্যপূর্ণ হতে পারে; আবার অর্থনৈতিক সমতা নিয়েও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে পারে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD