সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ পাবেন না। তবে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে বা ফেরত আনা হলে তাকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হবে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরে এ কথা বলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। গত দুই বছর ধরে তিনি সেখানেই আছেন। তার সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই প্রতিবেশী দেশটিতে আছেন বলে বিভিন্ন সময় নিজেরাই জানান দিয়েছেন।

এর মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় তাঁর সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই মন্ত্রীও ভারতে আছেন। গত ৯ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা।

রয়টার্সের বরাত দিয়ে দেশের কিছু গণমাধ্যমও সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করেছে। সেই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, চলতি বছর ডিসেম্বরের দিকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে তিনি আদালতের মুখোমুখি হবেন। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন। একই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে তার সঙ্গে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা চিফ প্রসিকিউটরের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার তাকে ভারত সরকারের কাছে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।

এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন, তাহলে তো নিজে নিজে তার আসার কোনো সুযোগ নাই। হয় প্রত্যর্পণ চুক্তির (এক্সট্রাডিশন) আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হ্যান্ডওভার করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার হয়েই কারাগারে যেতে হবে।’ নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শেখ হাসিনা এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে মনে করেন আমিনুল ইসলাম।

দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার জামিনের কোনো সুযোগ আছে কি না, জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির জামিন হয়েছে, এ রকম নজির নাই। যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাঁকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে সংগত কারণেই তিনি প্রথমে জেলে যাবেন এবং জেলে যাওয়ার পর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।’

এ পর্যায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারার বিধান তুলে ধরে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সেকশন ২১-এর ৩-এ পরিষ্কার করে বলা আছে, ৩০ দিনের পরে (রায় ঘোষণার) আর কোনো আপিল হবে না। যদি আপিল করার সুযোগ না থাকে তাহলে সাজা বহাল থাকবে। যদি আপিল করা যায়, তাহলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে যা হয় তা হবে।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ ছাড়াও ট্রাইব্যুনালে চলমান অন্যান্য মামলার হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার তদন্তকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই ধার্য তারিখে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরো ১০টি মামলার তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD