সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন

ভারতকে দুই শর্ত দিল বাংলাদেশ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে নয়াদিল্লিকে দুটি শর্ত দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শর্তে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যার আসামিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সফরের সিদ্ধান্ত নিতে ভারতের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সরকারের এ অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম।

ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে উভয় দেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে যেভাবে প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, তাতে এ প্রক্রিয়ার পরিবেশ বিনষ্ট হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এ সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্যে আমরা দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে দ্রুত ফেরত পাঠাতে এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছি।

এ সময় সরকারের পররাষ্ট্র নীতি পুনর্ব্যক্ত করে এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির আলোকে প্রতিবেশী দেশসহ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ নীতির ভিত্তি হচ্ছে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক কল্যাণ।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য তারিখও প্রস্তাবে ছিল। এখন ওই তারিখের পরিবর্তে কাছাকাছি সময়ে সফরটির কথা ভাবছে বাংলাদেশ।

তবে আগস্টের তৃতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে এ সফরের সূচি নিয়ে দুই দেশ পৃথক তারিখের বিষয়টি বিবেচনা করছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুটি শর্তের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরায় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর আবার অনিশ্চয়তায় পড়ল কি না- তা নিয়ে কোনো দেশের কর্মকর্তারাই স্পষ্ট বার্তা দেননি।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা অনেক ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল।

বিশেষ করে বিএনপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি এবং তার আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি সফর করেন।

সব মিলিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই আস্থা বৃদ্ধির চেষ্টা দেখা গেছে। কিন্তু এর মধ্যেই দুই সরকারের মধ্যে অস্বস্তির বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় দিল্লিতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা। জুলাই গণ অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ওই সংবাদ সম্মেলনের এক দিন আগেই শেখ হাসিনা যাতে ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রচার করতে না পারে, সে বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দেশটির সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

সংবাদ সম্মেলনে পরপরই শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে কথা বলার দিনেই রাতে কড়া ভাষায় একটি বিবৃতি দেয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার শুরু থেকেই ভারতে থাকা শেখ হাসিনার বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়াসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে দিল্লিকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে বাংলাদেশের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে তারা।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD