মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১১ অপরাহ্ন

এবার মোদি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন লড়াই, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের নয়াদিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে ২০২৬ সালের ১৯শে জুলাই তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে মোবাইল ফোন নাড়াচ্ছেন। রয়টার্স

ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে আলোচিত ‘ককরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এবার সরকারি স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে এই কর্মসূচি শুরুর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে এক আন্দোলনকর্মীর বাবার মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি নামের এই চাপসৃষ্টিকারী সংগঠন সম্প্রতি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে ভূমিকা রাখার দাবি করে। ৩৭ দিনের অবস্থান কর্মসূচির পর দেশজুড়ে সরকারবিরোধী তরুণদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে গত জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

এবার সংগঠনটির নতুন কর্মসূচির নাম ‘ফিক্স দ্য স্কুলস’। এর আওতায় সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকার সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ পানীয় জল, কার্যকর শৌচাগার, বিদ্যুৎ, ব্যবহারযোগ্য শ্রেণিকক্ষ, স্কুলের নিরাপত্তা, মধ্যাহ্নভোজ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ২৬ বছর বয়সী আবদুল হাফিজ। ওই স্কুলেই একসময় পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, স্কুল পরিদর্শনের কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় হাফিজ ও তার বাবা মোহাম্মদ মাফিক আহত হন। দুই দিন পর ৫১ বছর বয়সী মাফিক মারা যান।

তবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব হামলাকারীদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছে এবং ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পরও আবদুল হাফিজ জানিয়েছেন, উন্নত শিক্ষার দাবিতে তাদের আন্দোলন বন্ধ হবে না।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, শুধু ভালো স্কুলের দাবি জানানোর কারণে মানুষের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে রাজস্থানের আলওয়ার জেলায় স্কুলে অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার ও পানীয় জলের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের এক নেতা। স্থানীয় কর্মকর্তারা পরে এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান।

তবে রাজস্থান সরকার সরকারি স্কুলে বহিরাগতদের প্রবেশ এবং ছবি বা ভিডিও ধারণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তার কথা উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অনেক সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষার নিম্নমানের মতো সমস্যা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন এসব বিষয়কে নতুন করে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংগঠনটির কর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তারা হামলা ও সহিংসতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন, বাধা যতই আসুক সরকারি স্কুলগুলোর জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD