মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

হামলা জোরদার করবে ইরান, চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরান আবারও সামরিক অভিযান জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে, জুনে হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি নয় বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরান ‘পুরোপুরি আক্রমণাত্মক’ অবস্থানে যাবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ—দুটিই এখন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছাতে দুই দেশকে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান ‘তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধের’ কথা বলা হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, জুনের অস্থায়ী চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

আইআরজিসির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ

এদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগের একটি সম্ভাবনার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ শুরু করেছে।

মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড আইআরজিসির ঘনিষ্ঠ এক ইরাকি কুর্দি নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। ওই মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আইআরজিসির কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা পৌঁছানো হয়েছে।

marco-rubio
ট্রাম্পের মতোই বিপজ্জনক মার্কো রুবিও
ফক্স নিউজ পরে জানায়, টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পও ওই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার সোমবার ফক্স নিউজকে বলেন, ইরান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি সক্রিয়।

ওমানকে ট্রাম্পের হুমকি

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে। ইরানের দাবি, জুনের সমঝোতা স্মারকের একটি ধারা অনুযায়ী প্রণালিটি পরিচালনার অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এরপর হরমুজ দিয়ে অনুমোদনহীন পথে চলাচলের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগে ইরান বিভিন্ন জাহাজে হামলা শুরু করে। গত ৭ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওই সমঝোতা ‘শেষ হয়ে গেছে’।

ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা স্মারকের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পরিচালনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলাদা একটি সমঝোতার আলোচনা চলছে। ইরানের দাবি, দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে এই আলোচনায় হস্তক্ষেপ করলে ওমানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘ওমান বাধা দিলে আমরা তাদের ওপর ভয়াবহ হামলা চালাব।’

যুদ্ধের কারণে ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়া ইরানও জর্ডান, ওমান, কুয়েত, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা যুদ্ধ শুরুর আগের দামের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। সোমবার ব্রেন্টের দাম আরও ২ ডলারের বেশি বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৭ ডলারে স্থির হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের কংগ্রেশনাল নির্বাচনের আগে পেট্রলের দামও গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের ওপরে উঠেছে। যুদ্ধের আগে দেশটিতে পেট্রলের দাম ৩ ডলারের নিচে ছিল।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD