আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বর্তমান বিরোধীদল হিসেবে ১১ দলীয় ঐক্যের সবচেয়ে বড় প্রথম কর্মসূচি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ প্রধান ছয়টি দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে লংমার্চ সফল করতে বিএনপি, সরকারি দল, অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও বন্ধু সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় সেখানে লংমার্চের রুটে থাকা ৯টি জেলা ও মহানগর শাখা জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতি সভা চলছিল।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ডাকে গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে জেলা, উপজেলা ও মহানগরীতে তিন দফা কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ, গোলটেবিল আলোচনা এবং প্রচার-প্রচারণা সম্পন্ন করা হয়েছে। চতুর্থ রাউন্ডে এসে ১১ দলের পক্ষ থেকে লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইনশাআল্লাহ শুরু হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পক্ষ থেকে শরিক দল হিসেবে দলের প্রস্তুতির কথা জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল আবার ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দফায় দফায় প্রস্তুতির বিষয়গুলো জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চের প্রধান ছয়টি দাবি পোস্টার, লিফলেট ও প্রচারণায় তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও দেশব্যাপী বিরাজমান সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; ভেঙে পড়া ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণের প্রতিবাদ ও তা বন্ধ করা।
তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ঐতিহাসিক শাপলা চত্বরে সমবেত হয়ে সেখান থেকে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন। পথে মহাসড়কের দুই পাশের সব জেলা, থানা, উপজেলা ও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার জানান, এ রোডম্যাপে অন্তত ৬ থেকে ৭টি পয়েন্টে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পথসভা করবেন। লংমার্চের কাফেলায় কমপক্ষে এক হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত থাকবে। পথে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ ও যানবাহনও এতে যোগ দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লংমার্চের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে বলে জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। এগুলো হলো—অভ্যর্থনা বিভাগ, মেডিকেল বিভাগ, পরিবহন বিভাগ, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ, আইটি বিভাগ, স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ, সাংস্কৃতিক বিভাগ, নিরাপত্তা বিভাগ এবং প্রশাসনিক যোগাযোগ বিভাগ। সোমবার এসব বিভাগের দায়িত্বশীলদের নিয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সোমবার ১১ দলের নেতারা আইজিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে লিখিতভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-রংপুর, ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ঢাকা-সিলেট লংমার্চের সম্পূর্ণ রুট ও জনসভার স্পটগুলোর শিডিউল জমা দেওয়া হয়েছে। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে ঢাকা-সিলেট লংমার্চ ট্রেনে অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্ট রেঞ্জের ডিআইজি, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ট্রাফিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের আশ্বস্ত করেছে এবং কিছু পরামর্শও দিয়েছে।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষ সমন্বয় করে ধৈর্যের পরিচয় দিলে লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও সফল হবে। এটি সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হবে। কোনো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হবে না। প্রশাসন ও সরকারি দল ভিন্নমত ও পরমতসহিষ্ণুতার মহান আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, লংমার্চ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডাবল রোডের একটি পথ ব্যবহার করা হবে। অপর পথটি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ফাঁকা রাখা হবে, যাতে চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।
তবে এত বড় বহর ও পথসভার কারণে সাময়িক যানজট বা ভোগান্তি হতে পারে উল্লেখ করে এর জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আগাম ক্ষমা চান তিনি।
সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের প্রতিও বিশেষ সহযোগিতার আবেদন জানান গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলের এমপিরা বিধি ৬৮ অনুযায়ী নোটিশ দিয়ে বারবার বিতর্ক করছেন, কিন্তু আলোচনা নিষ্ফল হচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত পার্লামেন্টে এর নিষ্পত্তি না হচ্ছে, ততক্ষণ ৭০ শতাংশ জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায়কে সমুন্নত রাখতে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবেন তারা।
এ সময় ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত লংমার্চের প্রথম দিন শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে আরও তিনটি বিভাগীয় শহর অভিমুখে লংমার্চ যাবে। এর মধ্যে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ৩১ অক্টোবর খুলনা-কুষ্টিয়া এবং ২১ নভেম্বর বাই ট্রেনে সিলেট মহানগরের উদ্দেশে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন প্রমুখ।