এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরও নতুন বেতন কাঠামোতে বেতন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে বোঝা যায় সেই বিশ্ববিদ্যালয়টির মান ও অবস্থান কেমন। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও ধারণা পাওয়া যায়। তাই কোন বিশ্ববিদ্যালয়কে ভালো র্যাংকিংয়ে নিতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ন্যানোটেকনোলজি, রোবটিকসের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমরা ‘ক্রস বর্ডার এডুকেশন’-এর ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। এটা চালু করতে পারলে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার অনেক সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি এর ফলে ‘ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি’ (বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি) ও এদেশে আমদানি করতে পারব।”
এ সময় তিনি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, “আমাদের দেশে মেধাবী শিক্ষার্থীর অভাব নেই। এ দেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খুব ভালো ফলাফল করছে। তাদের ‘রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন’-এর মাধ্যমে দেশে এনে সেই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। আমরা বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের ঘোষণা দেন। প্রথম পর্যায়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এই তিনটি বিভাগ নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪টি অনুষদের অধীনে স্নাতক পর্যায়ে ১৬টি এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০টি বিভাগে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এরপর মন্ত্রী খুলনার জিয়া হল চত্বরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। এসময় তিনি বলেন, খুলনাকে বাংলাদেশের অন্যতম শিক্ষা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি প্রধান বক্তা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।