শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

কাদামাটিতে চাপা পড়েছে নেপালের সেই টানেল, আর কেউ জীবিত নেই

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নতুন করে কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পায়নি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল। তবে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। সেখানে আর কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।

এক প্রতিবেদনে কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, টানেলের ভেতর থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর কর্তৃপক্ষ অভিযান জোরদার করে। নতুন আশায় উদ্ধারকারী দল টানেলের এক মাথা থেকে অপর মাথায় তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেন। কিন্তু জীবিত আর কাউকে মেলেনি।

দেশটির আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) সদস্য অম্বর মাহাত জানান, সাত সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল টানেলের সব অংশে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়েছে। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া দুজন ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর এপিএফের ধসে পড়া স্থাপনা অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটের প্রধান কনস্টেবল পবন বাহাদুর তামাংয়ের নেতৃত্বে সাত সদস্যের দলটি টানেলে প্রবেশ করে। নেপালি সেনাবাহিনীর একটি দলও তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়।

মাহাত জানান, প্রকল্পের প্রায় প্রতিটি অংশই কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় পাথরও রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিট হামাগুড়ি দিয়ে টানেলের ভেতরে এগিয়ে প্রতিটি অংশ তল্লাশি করেন। কিন্তু সেখানে কেবল কাদা, মাটি ও পলিমাটি পাওয়া গেছে।

গত ২৬ অগস্ট যখন পাহাড় ভেঙে আকস্মিক বন্যা আসে, তখন দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল। প্রতি ক্ষেত্রেই সুড়ঙ্গ কেটে মাটির নীচে বানানো হয়েছিল পাওয়ারহাউস। প্রত্যেকটি প্রকল্প বানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু সুড়ঙ্গেই ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিভিন্ন নেপালি সংবাদমাধ্যম।

প্রবল পানির চাপের কারণে টানেলের ওপরের কিছু স্ল্যাবও ধসে পড়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাওয়ারহাউস ভবনের পাশ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে টানেলের ভেতরে তল্লাশির সময় আর কোনো মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যায়নি।

জীবিত উদ্ধার হওয়া সঞ্জয় সাহ জানান, তিনি পাওয়ারহাউসের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন এবং অন্যরা বের হয়ে যাওয়ার সময় তিনি বের হতে পারেননি। বর্তমানে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

এপিএফের মুখপাত্র নেত্র বাহাদুর কার্কিও নিশ্চিত করেছেন, উদ্ধারকারী দল টানেলের সবচেয়ে দূরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি জানান, যেখানে একজনের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেটিই ছিল বাকি থাকা শেষ অংশ। সেখানে আর কাউকে পাওয়া যায়নি।

নেপালি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাও টানেলের ভেতরে আর কোনো ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ত্রিশূলী হাইড্রোপাওয়ার স্টেশনের প্রধান আভাস ওঝা জানান, সেনাবাহিনী ও এপিএফের দল আর কাউকে খুঁজে না পাওয়ায় তিনি উদ্ধার অভিযান বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে প্রকল্পের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে সম্ভাব্য স্থানগুলো আবারও পরিদর্শনের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৪২ জন কর্মরত ছিলেন। এছাড়া ত্রিশূলী-১ প্রকল্পে ৫৫৭ জন, আর ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পে ১৯১ জন এবং রাসুওয়াগাধী প্রকল্পে ৯৩ জন কর্মী ছিলেন।

গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর বন্যায় এসব জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে আসা কাদা ও ধ্বংসাবশেষে প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন টানেলও ঢেকে যায়।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD