বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন

উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও টেকসই অংশীদারত্ব বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনের পলিসি ডায়ালগে প্যানেল আলোচক এর বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ চেইনের সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রফতানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং টেকসই অংশীদারত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনের পলিসি ডায়ালগে প্যানেল আলোচক এর বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

‘বিল্ডিং রেজিলিয়েন্ট ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কস ইন আ ডাইভার্স গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা শুধু সংকট মোকাবিলার বিষয় নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রফতানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সবুজ অর্থনৈতিক রূপান্তর।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যান-মেইড ফাইবার খাতকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। বিআরআই কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, লজিস্টিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অংশীদারত্বের সুযোগ রয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসাকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ডিজিটাল বাণিজ্য, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোকে পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিম্ন-কার্বন উৎপাদন, টেকসই লজিস্টিকস ও সবুজ অবকাঠামোই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ এ দেশে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

হংকংকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চীনের মূল ভূখণ্ড ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে হংকংয়ের ভূমিকা কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD