আগামী শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া হবে পরীক্ষার মাধ্যমে। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৫০ নম্বরের পরীক্ষায় এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষার কাঠামো ও সময় নির্ধারণসহ নতুন ভর্তি নীতিমালার খসড়া তৈরি করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। মোট ৫০ নম্বরের এ পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর থাকবে। অন্যদিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নেওয়া হবে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা। পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই ঘণ্টা।
এতে বাংলা ও ইংরেজিতে ৩০ করে এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার আয়োজনের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য আসনের তালিকা দিতে হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শূন্য পদের তথ্য পাঠাতে হবে।
বৈঠক সূত্র আরও জানায়, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ও বিজয় দিবসের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর আগামী ১৭ ডিসেম্বরের পর থেকে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তাব দিতে পারে মাউশি। তবে পরীক্ষার তারিখসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ বলেন, মাউশির পক্ষ থেকে শিগগিরই একটি প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ভর্তি নীতিমালা জারি করবে।
করোনা সংক্রমণের পর থেকে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি লটারির মাধ্যমে হয়ে আসছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময় সব শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সমালোচনার পর প্রথম শ্রেণিতে পরীক্ষা বাতিল করে লটারির মাধ্যমে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।