ফিলিস্তিনিদের জন্য দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড শান্তি প্রতিষ্ঠার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও গাজা ও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ভয়াবহ দুর্ভোগের কথা ভুলে গেলে চলবে না।
তিনি বলেন, গাজার জন্য নেওয়া শান্তি পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে কোনো বাধা ছাড়াই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও সামরিক অভিযান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরকে ধীরে ধীরে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা বন্ধ করতে হবে।
গুতেরেস বলেন, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বেসামরিক মানুষের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনও এই সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘একেবারেই অসহনীয়’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। গুতেরেস বলেন, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি ফিলিস্তিনের জাতিসংঘ দূত রিয়াদ মনসুর ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নির্মূল’ ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে গুতেরেস বলেন, ফিলিস্তিনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ফিলিস্তিনিদের সামনে কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানের পথ এখনো আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবেও তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান।
গাজার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভের উদ্যোগকে স্বাগত জানান গুতেরেস। তবে তিনি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে এখনো বড় ধরনের বাধা রয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, বর্তমানে যে কাঠামোয় শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে, ইসরায়েল তা গ্রহণ করছে না। গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকা এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বাড়তে থাকায়ও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন সামনে রেখে এসব মন্তব্য করেন গুতেরেস। অধিবেশনে ফিলিস্তিন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হতে পারে।
এদিকে গাজায় দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের কারণে খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা নিয়েও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।