শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ন

কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন মমতা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেসের দূরত্ব প্রকাশ্যে এল।

দুই আসনে বিজেপির বিরুদ্ধে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েও কংগ্রেসের সাড়া না পাওয়ার পর ভবিষ্যতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে আর কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোটে না থাকার কথা জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংসদের ভেতরে কিংবা বাইরেও কংগ্রেসের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথে আর হাঁটবে না তৃণমূল। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট ভাগাভাগি ঠেকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালকে ফোন করে নন্দীগ্রাম আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রেজিনগরে তৃণমূল প্রার্থীকে কংগ্রেস সমর্থন করুক বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কংগ্রেস অবশ্য সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, তৃণমূল সত্যিই জোট চাইলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে। সেখান থেকেই ভবিষ্যতে জোট নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।

এই অবস্থান ঘিরেই তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কংগ্রেস যদি কেবল তাদের স্থানীয় নেতাদের মতামত অনুযায়ী চলে, তাহলে সংসদেও কংগ্রেসের সঙ্গে একযোগে চলার কোনো বাধ্যবাধকতা তৃণমূলের নেই।

এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা না করার বার্তা সামনে আসে। এদিকে দুই দলই ইতিমধ্যে দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী ভূমি আন্দোলনের নেতা মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। কালীঘাট তৃণমূলের হয়ে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ভোট এক জায়গায় আনার যে সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত ভেস্তে গেল। বরং দুই আসনেই তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়াই করবে। এর সঙ্গে তৃণমূলের দুই শিবিরের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনও রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিক সমীকরণের পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।

কংগ্রেসের বক্তব্য, আগে দুই আসনেই তৃণমূল তাদের প্রার্থীদের সমর্থন করুক। অন্যদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, জোটের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার পরও কংগ্রেসের প্রত্যাখ্যানের ফলে ভবিষ্যতের সম্পর্ক নিয়েই নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে পাশাপাশি থাকা দুই দলের পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্কও নতুন মোড় নিল।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD