মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইয়েমেনের বন্দরশহরে সৌদির বিমান হামলা, নিহত ৬ গ্রিনল্যান্ডে দুটি সামরিক ঘাঁটি চালু করছে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যেতে বলল ইরান শ্রীলঙ্কায় বিশাল গণকবরের সন্ধান, পাওয়া গেল ৫৭২ কঙ্কাল নিজের কৃতিত্ব দেখাতে ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন বিশ্বমঞ্চে প্রথম ভাষণ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে ব্যবস্থা: বাণিজ্যমন্ত্রী

ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়া ‘সবকিছু’ করছে। আগুন নেভাতে কয়েক ডজন বিমান ও কয়েক হাজার কর্মী মোতায়েন করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সোমবার তথ্য জানান।

বোর্নিও ও সুমাত্রা দ্বীপে কয়েক সপ্তাহ ধরে দমকলকর্মীরা আগুনের বিরুদ্ধে লড়ছেন। আগুনের ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকা এবং প্রতিবেশী মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কিছু অংশ বিষাক্ত কুয়াশায় ঢেকে গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার পন্টিয়ানাক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া বলেন, গত মাস থেকে আগুন নেভাতে পানি ছোড়ার জন্য সরকার দ্বীপ দু’টিতে ৬৪টি বিমান ও ৫৪ হাজার কর্মী মোতায়েন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আকাশ থেকে মাটিতে—সব বাহিনীই কাজ করে যাচ্ছে। আগুন নেভানো, ধোঁয়ার প্রভাব কমানো এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে বন ও ভূমিতে আগুন লাগার হুমকি থেকে জনগণকে রক্ষা করতে সবকিছুই করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ভূখণ্ডের বিশাল আয়তন এবং পিটভূমির কঠিন পরিস্থিতি বিভিন্ন অঞ্চলে বন ও ভূমির আগুন মোকাবিলায় বড় ধরণের সমস্যা তৈরি করছে।’

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি পশ্চিম কালিমান্তানের দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার মুখপাত্র ড্যানিয়েল সিনিয়র বলেন, স্থানীয় পিট মাটির বিভিন্ন গভীরতায় আগুন জ্বলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘আরেকটি সমস্যা হলো, মাটিতে কাজ করা বাহিনীর জন্য পানির উৎস সীমিত। সাধারণভাবে, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পানির উৎস কমে যায়, এমনকি একসময় তা পুরোপুরি শুকিয়েও যায়।’

গত সপ্তাহে পশ্চিম কালিমান্তানের আদিবাসী ও নাগরিক সমাজের কয়েকটি সংগঠন আগুন প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে, একটি যৌথ মামলা করেছে।

এক বিবৃতিতে ওই সংগঠনের আইনজীবী গ্লোরিও সানেন বলেন, ‘এটি কোনো নতুন দুর্যোগ নয়। প্রতিবছরই এ দুর্যোগ ঘটে। এই পুনরাবৃত্তির ধরনই প্রমাণ করে যে আসামিরা বন ও ভূমির আগুন থেকে সৃষ্ট দুর্যোগ এবং এর সম্ভাব্য ধোঁয়াজনিত বিপর্যয় সম্পর্কে জানতেন।’

আগুন নেভানোর কাজে সহায়তা করতে চলতি মাসে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৩৫০ সদস্য পশ্চিম কালিমান্তানে পৌঁছেছেন।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোও মালয়েশিয়ার সহায়তা গ্রহণে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।
ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চলা শুষ্ক মৌসুমে নিয়মিত বনাঞ্চলে আগুনের ঘটনা ঘটে।

তবে এ বছর আগুনের তীব্রতা বেশি। এর সঙ্গে গত চার দশকে তুলনীয় রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির আশঙ্কার বিষয়টিও মিলে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন, কয়েক দশকের বনভূমি ধ্বংস এবং আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কারের চর্চাকেও দায়ী করছেন। এসব কারণে স্বাভাবিকভাবে আগুন প্রতিরোধী ভূমির বৈশিষ্ট্য বদলে গেছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে।

নুসান্তারা অ্যাটলাস প্রকল্পের হিসাবে, একই সময়ে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ হেক্টর। আগস্টের হিসাব যুক্ত করলে ক্ষতিগ্রস্ত মোট এলাকার পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর বলে তারা জানিয়েছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD