ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার শুরু।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ হওয়ার পর আইআরজিসি এই প্রতিক্রিয়া জানায়।
বিবৃতিতে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, ইরাকি জনগণের ইচ্ছা এবং ইরাক সরকারের প্রতিরোধ ও পদক্ষেপের ফলেই যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটি ছাড়তে হয়েছে।
আইআরজিসি ওয়াশিংটনের প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জনগণের হাতেই ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার কাজও শেষ হয়।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, ১২ বছর ধরে চলা এই অভিযানের মাধ্যমে ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট বা আইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক হুমকি হিসেবে পরাজিত করা হয়েছে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র জোটের সামরিক মিশন শেষ করার বিষয়ে একটি সময়সূচিতে সম্মত হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ জোটের সামরিক কার্যক্রম শেষ করে ইরাক ও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ছিল।
এদিকে ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বড় এলাকা আইএস দখল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে এই জোট গঠিত হয়। জোটটি ইরাকি বাহিনীকে বিমান সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রশিক্ষণ দেয়। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ইরাক সরকার জানায়, আইএসের দখলে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২০১১ সালের শেষে দেশটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি