ইয়েমেনের তাইজ প্রদেশে হুথি বিদ্রোহীদের অবস্থান ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে তিন ঘণ্টায় ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনী। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, হুথিদের গতিবিধি, রসদ, সামরিক সমাবেশ, সদস্য, যানবাহন ও সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানার পাশাপাশি হুথিদের সদস্য ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী সানা, সা’দা ও তাইজে হুথিদের বেশ কয়েকটি অবস্থানে হামলার কথা জানিয়েছিল ইয়েমেনি বাহিনী। সানায় একটি ‘উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তু’ এবং সা’দায় ১১টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করা হয়। তাইজে হুথিদের একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার ওপরও একাধিক বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।
ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যে এসব হামলা চালানো হলো। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলকভাবে সংঘাত কম থাকলেও সম্প্রতি তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় আবারও লড়াই বেড়েছে।
এদিকে হামলার আগে সৌদি আরবের মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, ২৯ সেপ্টেম্বর তাইবাহ বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হুথিদের একটি ড্রোন হামলায় একটি ট্রান্সফরমার অচল হয়ে যায়। তবে সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ওই কেন্দ্র থেকে মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানিয়েছে জোটটি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের হামলার জন্য দায়ী করলেও হুথিরা অভিযোগটি অস্বীকার করেছে। হুথিদের পক্ষ থেকে এটিকে সৌদি আরবের ‘মিথ্যা’ দাবি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাইজ প্রদেশটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সংঘাতের তীব্রতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও লোহিত সাগরের নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিও আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।