বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদানের সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী মেয়েদেরও নিয়মিত হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে দেশগুলোর প্রতি পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে কম বয়সে টিকা দেওয়ার ফলে টিকাগ্রহণের হার ও আওতা বাড়বে বলে মনে হলেই কেবল এ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত পরামর্শক দল (এসএজিই) হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে এ সুপারিশ করেছে। সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে এইচপিভি টিকাদানের হার এখনো লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। তাই আরও বেশি মেয়েকে টিকার আওতায় আনতে নতুন পদ্ধতি বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

ডব্লিউএইচওর টিকাদানবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের কৌশলগত পরামর্শক দলের চেয়ারম্যান অ্যান্থনি স্কট সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৬৫টি দেশ এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। তবে বিশ্বজুড়ে এই টিকা নেওয়ার হার মাত্র ৩৩ শতাংশ, যা সংস্থাটির নির্ধারিত ৯০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম।

ডব্লিউএইচওর সুপারিশ অনুযায়ী, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী সব মেয়ের জন্য এইচপিভি টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

এক ডোজ টিকাতেই বেশি মেয়েকে সুরক্ষার লক্ষ্য

২০২২ সালে এসএজিই সুপারিশ করেছিল, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক বা দুই ডোজ এইচপিভি টিকা দেওয়া যেতে পারে। ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, ২১ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ছয় মাসের ব্যবধানে দুই ডোজ টিকা দেওয়ার পরামর্শ ছিল।

পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ বৈজ্ঞানিক তথ্য পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের এক ডোজ টিকা দেওয়ার পদ্ধতিই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

অ্যান্থনি স্কট বলেন, কোনো দেশে চার থেকে আট বছর বয়সী মেয়েদের নিয়মিত টিকা দিলে যদি টিকাগ্রহণের হার ও আওতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে দেশটি এই বয়সসীমার মেয়েদেরও টিকা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সী মেয়েদের টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের টিকা দেওয়ার অগ্রাধিকার অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ৬ লাখের বেশি নতুন রোগী

এইচপিভির দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের কারণে জরায়ুমুখের ক্যানসার হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে জরায়ুমুখের ক্যানসারে প্রায় ৬ লাখ ৪ হাজার নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই বছরে এ রোগে মারা গেছেন প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

ডব্লিউএইচওর টিকাবিষয়ক বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ৯ কোটি ৫০ লাখের বেশি মেয়ে এইচপিভি টিকা পেয়েছে।

তবে বিশ্বজুড়ে টিকাদানের হার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম থাকায় আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছেলেদেরও টিকাদানের আওতায় আনার সুপারিশ

এইচপিভি টিকাদানের আওতা বাড়াতে এক ডোজের টিকা কর্মসূচি আরও কয়েকটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রসারণের সুপারিশ করেছে এসএজিই। এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের একটি নির্দিষ্ট ক্রমও তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত যেসব নারী নির্ধারিত বয়সে টিকা নিতে পারেননি, তাদের টিকার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এরপর ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত নারীদের ক্ষেত্রে এ সুযোগ সম্প্রসারণের সুপারিশ রয়েছে।

এরপর ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়মিত টিকাদান এবং সবশেষে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত পুরুষদের বাদ পড়া টিকা নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে।

২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এইচপিভির আটটি টিকা ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ২৬টি দেশে নারীদের ক্যানসারজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ জরায়ুমুখের ক্যানসার। এসব দেশের বেশির ভাগই সাব-সাহারান আফ্রিকা, দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার কিছু অংশ, মেলানেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত।

এই পরিস্থিতিতে এইচপিভি টিকাদানের আওতা বাড়ানোকে জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের নতুন সুপারিশে এক ডোজের টিকা কর্মসূচির কার্যকারিতা এবং আরও বেশি মেয়েকে টিকার আওতায় আনার সম্ভাবনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD