ভয়াবহ বোমা কিংবা সামরিক শক্তির হুমকি দিয়ে ইরানকে দমিয়ে রাখা যাবে না—এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর নির্বাহী উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা শেখ। তিনি জানিয়েছেন, সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর ভাষায়, শত্রুর যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সেনাবাহিনী এখন ‘ট্রিগারে আঙুল রেখে’ অপেক্ষা করছে।
পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘সব বোমার জননী’ ব্যবহারের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন জেনারেল আলিরেজা শেখ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণই শত্রুর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের প্রভাব শত্রুর চিন্তাভাবনা, মনস্তত্ত্ব, দৃষ্টিভঙ্গি এবং কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি নাড়িয়ে দিতে পারে।
আলিরেজা শেখ বলেন, শত্রুর বাড়াবাড়ি ও অতিরিক্ত দাবির উপযুক্ত জবাব ইরানের জনগণই দেবে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ইরানের এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, দেশটির জনগণকে ভয় দেখানো এবং নিজেদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করা শত্রুপক্ষের প্রচারণারই অংশ। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরানের জনগণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তাঁর মতে, ইরানের জনগণের মনোবল ও প্রতিরোধক্ষমতা শত্রুর কৌশলগত হিসাব-নিকাশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অব্যাহত রয়েছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
ইরানের জনগণের ঐক্য ও দৃঢ়তার ওপর জোর দিয়ে আলিরেজা শেখ বলেন, শত্রুকে বুঝতে হবে যে তারা একটি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ জাতির মুখোমুখি হয়েছে। এমন একটি জাতির বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা সহজ নয়।
তিনি বলেন, বোমা দিয়ে কোনো সভ্যতাকে ধ্বংস করা যায় না।
ইরানের সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে এই জেনারেল বলেন, দেশটির সভ্যতার শিকড় বহু শতাব্দী ধরে বিস্তৃত। সেই দীর্ঘ ইতিহাসের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস বিশ্ব ইতিহাসের একটি অপেক্ষাকৃত ছোট অংশজুড়ে রয়েছে।
সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে আলিরেজা শেখ বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সেনাবাহিনীসহ দেশের সব সশস্ত্র বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতিতে জবাব দেওয়ার উপযোগী অবস্থায় রাখা।
তিনি জানান, এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সেনাবাহিনী বর্তমানে যেকোনো হুমকির তাৎক্ষণিক জবাব দিতে প্রস্তুত।
আলিরেজা শেখের বক্তব্যে স্পষ্ট, সামরিক চাপ ও হুমকির মুখেও ইরান তার জনগণের ঐক্য, ঐতিহাসিক পরিচয় এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে সামনে রেখে দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখতে চায়।