বোমা হামলার হুমকির জেরে ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাগামী একটি ফ্লাইট বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ার বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছে। রোববার এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়।
বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তেল আবিব থেকে রওনা হয়ে রোমানিয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একাধিকারবার বোমা হামলার হুমকি পান ওই উড়োজাহাজটির ক্রুরা। তার পরিপ্রেক্ষিতেই পাইলটরা সোফিয়ায় জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। অবতরণের পর যাত্রীদের বিমান থেকে নিরাপদে উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে আনা হয়।
পরিবহন মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সোফিয়ার বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ভালোভাবে তল্লাশির পর উড়োজাহাজটি ফের ভিয়েনার উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় প্রচলিত কার্যপদ্ধতি অনুযায়ী উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য বুলগেরীয় বিমান বাহিনী একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান পাঠায়। সেই মিগ-২৯ যাত্রীবাহী বিমানটিকে পাহারা (এককর্ট) করে ভিয়েনা পৌঁছে দেয়।
এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এএফপি-কে জানিয়েছে যে, বিমানটিতে (এয়ারবাস এ-৩২০) ৫১ জন যাত্রী ও ছয়জন ক্রু ছিলেন। হুমকি পাওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিমানটি সোফিয়ায় নিরাপদে অবতরণ করে এবং এরপরই সেটিতে নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু করা হয়।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডার ২৪’র তথ্য অনুযায়ী, ‘ওই-এলজেডই’ নিবন্ধিত বিমানটি রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তারপর সেটি দক্ষিণ দিকে ঘুরে বুলগেরিয়ার সোফিয়ায় অবতরণ করে।
অন্য একটি ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে বিমানটি ‘স্কোয়াক কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠাচ্ছিল, যা মূলত একটি সাধারণ জরুরি অবস্থার ইঙ্গিত।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ক্রাইসিস রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে গত মাসের শেষের দিকে অন্য একটি ঘটনায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কো-পাইলট ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন, তবে ক্যাপ্টেন, যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে তাকে থামানো সম্ভব হয়।
গত সপ্তাহে গ্রিসের করফু দ্বীপ থেকে জার্মানির নুরেমবার্গগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ভুলবশত বিমান ছিনতাইয়ের সতর্কবার্তা পাঠানো হলে ক্রোয়েশিয়া ও জার্মানি—উভয় দেশই তাদের যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠায়।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি