গেল ২৮ মে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়া ৯ ভিক্টিমকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
আজ রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে এ তথ্য জানায় সিআইডি’র মিডিয়া উইং।
ব্রিফিং করেন সিআইডির ডিআইজি আব্দুল্লাহেল বাকী। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পলাতক আসামিদের তথ্য এবং ছবি প্রকাশ করে ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারি করা হচ্ছে।
সিআইডি জানায়, লিবিয়া থেকে ৯ ভিক্টিমকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা গেলেও ৩ ভিক্টিমকে এখনো আনা সম্ভব হয়নি। সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে পাচারের বর্ণনা দেন উদ্ধারকৃত ভিক্টিম জানু মিয়াঁ। ঘটনাটি ঘটিয়েছিল একদল মানব পাচারকারী ও তাদের স্বজনরা। ওই ঘটনায় ৪ আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হয়েছিলো।
ওই ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া একজনের বরাতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, উন্নত জীবিকার সন্ধানে ইউরোপ যাওয়ার জন্য লিবিয়ায় দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন ৩৮ বাংলাদেশি। বেনগাজি থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে মানবপাচারকারীরা তাদের ত্রিপোলি নিয়ে যাচ্ছিল।
ত্রিপলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ওই দলটি লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়। তখন পাচারকারীরা আরও টাকা দাবি করে।
এ হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশে মানবপাচারকারীদের ধরতে মাঠে নামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দা বাহিনী। একের পর এক ঘটনা উদঘাটনের সঙ্গে সঙ্গে মামলা দায়ের এবং মানব পাচারে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৯ মে লিবিয়ার মিজদা শহরে মানব পাচারকারীদের দ্বারা বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে ২৬ জন বাংলাদেশি নিহত ও ১২ জন আহত হয়। এই সংক্রান্তে সর্বমোট ২৬টি মামলা রুজু হয়। সিআইডি ১৫টি মামলা স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে এবং মামলার তদন্তে ইতোমধ্যে আসামি গ্রেপ্তারসহ অনেকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত দালাল ও মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে অচিরেই রেড এলার্ট জারি করা হবে। বর্বরোচিত ঘটনার পর সিআইডি আহত ভিকটিমদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। এর ফলে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ৯ জন ভিকটিম- ফিরোজ বেপারী, জানু মিয়াঁ, ওমর শেখ, সজল মিয়াঁ, তরিকুল ইসলাম, বকুল হোসেন, মোঃ আলী, সোহাগ আহমেদ, সাইদুল ইসলাম বাংলাদেশ ও লিবিয়ার যৌথ উদ্যোগে বোরাক এয়ার এর বিশেষ ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগমন করেন।
সিআইডির মানব পাচার ইউনিট উল্লেখিত ৯ জন ভিকটিমকে সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে আসে। মামলার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের বর্ণনা, ঘটনার সার্বিক বিবরণ ও প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য গ্রহণের জন্যে ভিকটিমদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। আহতের মধ্যে বাপ্পীদত্ত, সম্রাট খালাসী, সাজিদ ওই ফ্লাইটে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। এ ঘটনায় অচিরেই ভিকটিমদের আদালতে জবানবন্দি দেয়ার জন্য উপস্থাপন করা হবে। উল্লিখিত ঘটনাটি নিরিখে সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন ও বনানী থানায় ৩টি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় সিআইডির তদন্তাধীন ১৫ টি মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।