সফিকুল হাসান সোহেল : মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় শিশু, কিশোর ও যুব শক্তিকে ক্রীড়াক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তুলতে ও যুব সমাজকে অবক্ষয় থেকে সুস্থধারায় যুক্ত করতে জুবেদ চৌধুরী ক্রীড়া ও ফুটবল একাডেমি কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতা,শরীর গঠন,চরিত্র গঠন,সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে যোগ্য দক্ষ ক্রীড়াবিদ তথা মানব সম্পদ গড়ে তোলা এবং ফুটবল সহ অন্যান্য ক্রীড়াঙ্গনের সাথে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে গত বছরের ১৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করেছিল। কুলাউড়ার বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান ক্রীড়াব্যক্তিত্ব এবং ক্রীড়া সংগঠকদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। একসময় সারা সিলেট বিভাগের ক্রীড়াঙ্গনে প্রাধান্য ছিলো কুলাউড়াবাসীর। সঠিক পরিকল্পনা ও গাইডের অভাবে কালের পরিক্রমায় সেটা হারিয়ে গেছে। মূলত: হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের আশায় এই প্রশিক্ষণ একাডেমীর যাত্রা। ঝিমিয়ে পরা ক্রীড়াঙ্গন উজ্জীবিত করা, দেশের তরুণ সমাজের মাঝে ভয়ঙ্করভাবে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি মাদক থেকে মুক্ত করা একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিশেষায়িত শিক্ষা বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি এবং দেশের বিভিন্ন ক্যাডেট কলেজে শিক্ষালাভের সুযোগ দেয়ার মানসে এই ক্রীড়া একাডেমির ভবিষ্যত লক্ষ্য। হাঁটি হাঁটি পা পা করে সেই লক্ষ্যের দিকেই এগুতে চায় তারা। একাডেমির মূল লক্ষ্য কুলাউড়া থেকে কিছু উদ্যোমী ফুটবলার তৈরি করে তাদের জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ করে দেয়া। এ জন্য তাদেরকে জাতীয় দলের কোচদের মাধ্যমে উন্নত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। একাডেমি পরিচালনার জন্য ৫ জন পরিচালক ও ১২ জন সদস্য নিয়ে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়াও আর্থিক লেনদেন পরিচালনার জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। একাডেমি সঠিকভাবে পরিচালনায় সহায়ক হিসেবে ১০ সদস্য বিশিষ্ট অপর একটি উপদেষ্ঠা কমিটি আর ক্রীড়াপ্রেমী প্রবাসী ৫০ জনকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মূলত: বয়সভিত্তিক (অনূর্ধ্ব-১২, ১৪, ১৬) প্রতিভাবান ফুটবলার বাছাই করে দ্ক্ষ ফুটবলার তৈরি করাই এই একাডেমরি লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে গত ২৯ নভেম্বর নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই করা হয়। বাছাই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাফুফে কোচ মিজানুর রহমান মিনার ও আবুল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ফিরোজ মাহমুদ হোসেন টিটু, সাবেক খেলোয়াড় সাইফুর রহমান মনি। প্রায় ২৫০ জন বালক থেকে ৫০ জনকে বাছাই করা হয়। বাছাই প্রক্রিয়াতে দেখা হয়েছে উচ্চতা,স্ট্যামিনা,শারীরিক গঠন ইত্যাদি। ফুটবলকে প্রাধান্য দিলেও পাশাপাশি অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, টেবিল টেনিস ও যুক্ত করতে চায় একাডেমীর কর্তাব্যক্তিরা। এছাড়া অন্যান্য ক্রীড়া যেমন ক্রিকেট ,ভলিবল ইত্যাদি শুধু স্বল্প সময়ের পরিকল্পনামূলক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা কোচ জামাল আহমেদ,খন্দকার সাইফুর রহমান আফজাল (ফুটবল), সুহেল আহমেদ (অ্যাথলেটিক্স,ক্রিকেট) এবং শহিদুল ইসলাম শাহীন (ফুটবল) কোচিংয়ে নিয়োজিত রয়েছেন। সপ্তাহে চারদিন বিকেলে কুলাউড়া সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠ এবং কুলাউড়া নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রশিক্ষণ চলছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে জার্সিসহ ক্রীড়া সরঞ্জামাদি একাডেমী থেকে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে মৌলভীবাজারের মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ক ও সংগঠক প্রয়াত জুবেদ চৌধুরীর নামে এই ক্রীড়া ও ফুটবল একাডেমীর নামকরণ করা হয়েছে ।