ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের সীমানা পেরিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার আম বেশ সাড়া জাগিয়েছে। এবছর দেশের প্রথম স্থানীয় জাত হিসেবে সাতক্ষীরার গোবিন্দভোগ আম যাচ্ছে জার্মানিতে।
আমচাষিরা জানান, সচরাচর হিমসাগর ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম রপ্তানি হলেও এবারই প্রথম রপ্তানির তালিকায় উঠলো গোবিন্দভোগ আম।
গত মৌসুমে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে রপ্তানি বিঘ্নিত হলেও কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় এবং বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ ও সলিডারিডাড’র সহযোগিতায় চলতি মৌসুমে আবারও রপ্তানি শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় দেশের গন্ডি পেরিয়ে ইউরোপে গেলো সাতক্ষীরার আম।
সাতক্ষীরা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল শুক্রবার (২১ মে) রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সদর উপজেলার মাধবকাটি ছয়ঘরিয়া এলাকার হাফিজুর রহমানের আম বাগান থেকে সরকারি নিয়ম মেনে ৪ হাজার কেজি হিমসাগর আম ইতালি, ফ্রান্স ও লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। আর বিদেশে আম পাঠাতে পেরে খুশি আম চাষিরা।
দু’বছর আগের চেয়ে দ্বিগুণ আম এবার বিদেশের বাজারে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ‘সফল’ প্রকল্প নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় সাতক্ষীরা থেকে নিরাপদ হিমসাগর আম রপ্তানি করা হয়। এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম, জেলা বিপনন কর্মকর্তা সালেহ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুবায়ের হোসেন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া’র প্রোগ্রাম অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
এনএইচবি কর্পোরেশনের স্বত্বাধিকারী বুলবুল হোসেন ও তাশফিক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হোসাইন বায়ারের প্রতিনিধির মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় এই আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
কলারোয়া উপজেলার আম চাষি মো.আবু দাউদ জানান, তাদের আম নিরাপদ ও বালাইমুক্ত।
সাতক্ষীরাস্থ সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বিষমুক্ত আম উৎপাদনে সাতক্ষীরা জেলার পাঁচশ চাষিকে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে সুন্দরভাবে বিষমুক্ত আম উৎপাদন করেছেন ।
সাতক্ষীরা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে এখানকার মাটি ও আবহাওয়াজনিত কারণে অন্যান্য জেলার তুলনায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সাতক্ষীরার আম পেকে যায়। তাই রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পেছনে ফেলে রপ্তানি বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পায় সাতক্ষীরার ল্যাংড়া, হিমসাগর ও আম্রপালি আম।
তিনি জানান, তবে এ বছর থেকে এই রপ্তানির তালিকায় গোবিন্দভোগ আম যুক্ত হলো। এছাড়া সারাদেশেও রয়েছে সাতক্ষীরার আমের বিপুল চাহিদা। সাতক্ষীরা জেলা থেকে এবার বিভিন্ন জাতের ৫শ মেট্রিকটন আম বিদেশে রপ্তানি হবে।
জেলায় এবার আম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ৪০ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, জেলা কৃষিসম্পসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘সফল’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত আমসহ অন্যান্য সবজির ধারাবাহিক রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।