ভোলায় জালিয়াতির মাধ্যমে হাসপাতালের সুইপার থেকে স্বাস্থ্য সহকারী হয়ে নিজেকে ডক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে আব্দুল হাই নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে এলাকার অসংখ্য মানুষের জমি আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয় উক্ত আব্দুরল হাই ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হাওয়ার পরও স্বাস্থ্য বিভাগ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য বিভাগ ও দুদকসহ বিভিন্ন দপ্তরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পায়নি এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগে জানা যায, ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কর্মরত স্বাস্থ্যসহকারী আবদুল হাই ৮ম শ্রেণি পাশের সনদপত্র দেখিয়ে ১৯৮৭ সালে ভোলা সদর হাসপাতালে সুইপার/ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১৯৮১ সালে দাখিল (তৎকালীন ৮ম শ্রেণি) পাসের সনদপত্রকে এসএসসি সমমানের দেখিয়ে স্বাস্থ্যসহকারী পদে পদোন্নতি পান। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্বা.নং: শা ১/৬ এন পি ১৩/৮৪/১৪২(৪০)- শিক্ষা তারিখ- ঢাকা ২৩-০২-৮৬ইং-এর মাধ্যমে ১৯৮৫ সাল থেকে দাখিল পাসকে এসএসসি সমমান দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি ১৯৮১ সালের দাখিল পাস সেহেতু তিনি আদৌ এসএসসি সমমানের পাস করেননি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে ঝাড়ুদারের চাকরি নিয়ে স্বাস্থ্য সহকারী পদের সমুদয় ইনক্রিমেন্টসহ স্বাস্থ্যসহকারীর বেতন ভাতা উত্তোলন করেছেন এবং এখনো করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ডিপার্টমেন্টে আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এহেন অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির খবর স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত হলে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে সরকারি অর্থ তছরুপ করে যাচ্ছেন। বরং তিনি অনিয়ম দুর্নীতিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।
স্থানীয়রা জানান, ছেলে এবং ছেলের বউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করেন- এই দাপট দেখিয়ে আব্দুল হাই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষকে মারধর ও জমি দখল করে চলছেন। আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে ভোলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মে মাসের ২ তারিখে দণ্ডবিধির ৪৪৭/৩২৩/৩২৪/৩৭৯/৩৫৪/৪২৭/৫০৬(২) ধারায় সি.আর ২৩৪/২১ নং মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় বিজ্ঞ আদালত হাইর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরওয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। ওয়ারেন্টমূলে পুলিশ বিগত ১২ তারিখ হাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। এমতাবস্থায় সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধি ও বিএআর মোতাবেক হাই গ্রেপ্তার হওয়ার দিন থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা। কিন্তু লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে কর্তৃপক্ষ আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
এদিকে, আব্দুল হাইর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- সনদপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি চাকরি প্রাপ্তি এবং পদোন্নতির মাধ্যমে সরকারের টাকা আত্মসাত। হাসপাতালের সুইপার হয়ে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া, নিজ বাড়ির সামনে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ ওষুধের দোকান দিয়ে সেখানে হাসপাতাল থেকে চুরি করা সরকারি ওষুধ বিক্রি। বিএনপি আমলে স্ত্রীকে মেম্বার বানিয়ে স্ত্রীর সই জাল করে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে জ্ঞাত আয় বিহর্ভূত সম্পদ অর্জন। তার বাড়ির সামনের সরকারি আয়রন ব্রিজ ভেঙে অর্ধেক বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে হাইর বিরুদ্ধে। নিজ ডিপার্টম্যান্টে আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিকবার শোকজ করা হলেও ঘুষ দিয়ে তা ম্যানেজ করে চাকরিতে বহাল এবং আরো বেপরোয়া হয়ে দুর্নীতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাত করছেন বলে অভিযোগ।
অভিযোগ নিয়ে আব্দুল হাইর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব মিথ্যে। আমি বৈধ না অবৈধ তা সিদ্ধান্ত নিবে আমার ডিপার্টমেন্ট। যারা অভিযোগ দিয়েছেন তারা আমার সঙ্গে শত্রুতা বসত এ কাজ করেছেন।’
এবিষয়ে ভোলা সিভিল সার্জন ডা. শফিকুজ্জামান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’