জুয়া খেলার আসরে অভিযান চালিয়ে বগুড়ার ধুনট থানার এক পুলিশ সদস্যকে পেটানো মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ১০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, এক লিটার চোলাই মদ, জুয়া খেলার সরঞ্জামাদি ও নগদ ২৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পুলিশ পেটানো মামলার প্রধান আসামি আরিফুর ইসলাম হিটলু (৩৮), জুয়াড়ি শাজাহানপুর উপজেলার ফারুক হোসেন (৪১), বগুড়া সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৭) ও নওগাঁ জেলার মান্দা থানার সোহরাব হোসেন (৪৫)।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ধুনট থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে বেড়েরবাড়ী গ্রামের বুড়িরভিটা এলাকা থেকে জুয়া খেলার সময় তাদের গ্রেপ্তার করে।
মামলা ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হিটলার ওরফে হিটলু বেড়েরবাড়ি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তার নেতৃত্বে বুড়িরভিটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিন তাসের জুয়া খেলার আসর বসতো।
বগুড়া জেলা পুলিশ শাখায় (ডিএসবি) ওয়াচার কনস্টেবল সেলিম মিয়া একাই ২৯ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি বুড়িরভিটা এলাকায় জুয়া খেলার আসরে যান। সেখানে তিনি মুঠোফোন দিয়ে জুয়া খেলার আসরের ছবি তোলেন।
এ সময় সংঘবদ্ধ জুয়াড়িরা ক্ষুব্ধ হয়ে সেলিম মিয়াকে মারপিটে আহত করে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য সেলিম মিয়া বাদী হয়ে এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ি হিটলার ওরফে হিটলুসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। একই স্থানে বৃহস্পতিবার রাতে হিটলার ওরফে হিটলুর নেতৃত্ব আবারো জুয়ার আসর বসে। সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় হিটলুর কাছ থেকে ইয়াবা, চোলাইমদ জব্দ করে পুলিশ।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, হিটলার ওরফে হিটলুকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া আইনে পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে জুয়া আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।