বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন

আসামিকে বাঁচাতে অর্থ আদায়, এএসআই ও ২ সাংবাদিক গ্রেফতার

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বদলে ফেলা হবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। খুন হয়ে যাবে স্বাভাবিক মৃত্যু। বিচারে খালাস পাবেন অভিযুক্ত আসামি। এই প্রলোভনে ফেলে হত্যা মামলার আসামির পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। যে চক্রটির প্রধান পুলিশের এএসআই এবং দুই সাংবাদিক। রাজধানীর উলনে একটি হত্যা মামলার তদন্তে নেমে তিন প্রতারককেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধরা পড়েছে অভিযুক্ত খুনিও।

রাজধানীর উলনের বাড়ির ফটক খোলাকে কেন্দ্র করে গেলো ২৮ আগস্ট ভাড়াটিয়া পরিবারের সঙ্গে বিবাদে জড়ান বাড়ির মালিক। এক পর্যায়ে বাড়ির মালিকের ছোড়া ইটের আঘাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ভাড়াটিয়া কামরুল ইসলাম।

সেদিনের ঘটনা তুলে ধরে খুনির দ্রুত বিচার চান কামরুলের দুই সন্তান।

নিহত কামরুল ইসলামের ছেলে আজিজুল হাসিব বলেন, ‘তিনি আমার আম্মু-আব্বুকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন। গালাগালির একপর্যায়ে উনি আব্বুর গায়ে হাত তোলে। হাতাহাতির এক পর্যায়ে উনি ইটটা তুলে নিয়ে আব্বুর মাথায় আঘাত করে। দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

হত্যাকাণ্ডের পরপরই পালিয়ে যান বাড়ির মালিক অভিযুক্ত খুনি কাজী জিকু। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় অবস্থান বদল করেন বারবার। পুলিশ জানিয়েছে, সবশেষ চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু ব্যবসায়ী সেজে থাকছিলেন জিকু। সেখান থেকে ৮ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

খুনের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়ার পাশাপাশি জিকু জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বদলে খুনকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখাতে তার স্ত্রীর কাছ থেকে দুই দফায় দেড় লাখ টাকা নেন এএসআই সাজ্জাদ হোসেন ও সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন ও মিজানুর রহমান।

জিকুর স্ত্রী জানান, খুনের মামলা থেকে স্বামীকে বাঁচানোর প্রলোভনে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিতে একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের কর্মচারী সাজিয়ে এনেছিল তারা।

অভিযুক্ত খুনির স্ত্রী রোকসানা আক্তার বলেন, ‘একজনকে মেডিক্যালের লোক সাজিয়ে বলেছে , ওই ব্যক্তি কাজটা করে দিবে। তখন তার হাতে টাকাটা দেয়া হয়। এরপর যখন সে ধরা পড়ে তখন, জানতে পারি সব সাজানো। ওরা নিজেরাই নাকি টাকাটা ভাগ করে নিয়েছে।

ঘটনার সত্যতা পেয়ে এএসআই ও দুই সাংবাদিককে গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা বলছেন, ফৌজদারি অপরাধ করলে রেহাই পাবে না কেউই।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ তেজগাঁও বিভাগ উপ কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বলেন, জিকু পলাতক হয় এবং সে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পালিয়ে এক পর্যায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু ব্যবসায়ী সেজে আত্মগোপন করে। আমরা তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছি।

মো. শহিদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘স্থানীয় বিভিন্ন পত্র পত্রিকার নাম ভাঙ্গিয়ে এরা দালাল হিসেবে এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম করে থাকে। তারা চেষ্টা করেছিলো ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে, ময়না তদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন করে, মামলা থেকে রেহাই পাইয়ে দিতে। প্রতারণার জাল ফেলে তাদের কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করেছে।

প্রসঙ্গত. গেল বছর বরিশালগামী লঞ্চ থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করে অর্থ আদায়ের দায়ে এএসআই সাজ্জাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তারপর থেকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত থাকলেও এখন প্রতারণার দায়ে কারাগারে তিনি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD