আদালত থেকে কাঁদতে কাঁদতে বের হলেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃঞ্চপুর গ্রামে লাঞ্ছনার শিকার সেই নারী (৩৭)।
সোমবার (৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে বের হন।
বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আজকে যে রায় দিয়েছে তাতে আমি খুশি না। আমি তাদের ফাঁসি চেয়েছি। যদি আদালত ফাঁসি দিতেন তাহলে আমি কাঁদতে কাঁদতে বের হতাম না।
আদালত প্রাঙ্গণে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির নেত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, এই ঘটনাটি সারাদেশের আলোচিত ঘটনা। আজকে যে রায় দিয়েছে তাতে আমরা খুশি। আমরা চাই আর কোনো নারী যেন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
এর আগে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে লাঞ্ছনার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায়ে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটে নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জয়নাল আবেদীন মামলার রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম। আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে উভয় আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ঘরে ঢুকে এক নারীকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ভিডিওধারণ করেন দেলোয়ার বাহিনীর সদস্যরা।
গত বছরের ৪ অক্টোবর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ধর্ষণ, নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনে তিনটি মামলা করেন নির্যাতিত নারী।