যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ও নিজের ব্যক্তিগত ভূমিকা না থাকলে অনেক আগেই ইসরায়েল রাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যেত বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি তিনি না থাকলে দেশটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
চলমান জি-৭ (G7) সম্মেলনের সাইডলাইনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন না থাকলে ইসরায়েল টিকে থাকতে পারত না। আর আমি যদি ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ না করতাম, তবে দেশটির কোনো অস্তিত্বই থাকত না। কারণ অন্য কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলের সুরক্ষায় আমার মতো এমন কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার সাহস দেখাতেন না।
ট্রাম্পের দাবি, তিনি মধ্যস্থতা না করলে অনেক আগেই ইসরায়েল মানচিত্র থেকে মুছে যেত।
তবে ইসরায়েলের প্রতি নিজের এই একচ্ছত্র সমর্থনের কথা ফলানোর পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর নিজের অসন্তোষের কথাও লুকাননি ট্রাম্প। লেবানন ইস্যুতে তিনি নেতানিয়াহুকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের ঘন ঘন ও অনবরত সামরিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি চুক্তিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
লেবাননের গৌরবময় অতীতের স্মৃতিচারণ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবানন একসময় মধ্যপ্রাচ্যের একটি সমৃদ্ধ দেশ ছিল। এটি পরিচিত ছিল বিশ্বখ্যাত অধ্যাপক, চিকিৎসক ও আইনজীবীদের দেশ হিসেবে। মেধাবী ও সুশিক্ষিত মানুষের এক বড় কেন্দ্র ছিল লেবানন। কিন্তু চলমান যুদ্ধবিগ্রহের কারণে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত রোববার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধকালীন সিদ্ধান্ত ও বিচারবোধ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এমন অবস্থান নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা