মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ার তাগিদ ফলকার তুর্কের ইরানে ছোট গোল আলুর জন্য বড় বিল দিচ্ছেন ট্রাম্প মন্ত্রীর কাছে শুনি ‘তার লম্বা, তাই বিদ্যুৎ চলে যায়’: ডেপুটি স্পিকার সৌদির তেল স্থাপনায় ফের হামলা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর শেখ হাসিনার নামে দেশে সম্পদের হিসাব ব্যাংক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ দেশে অটোরিকশা ৮০ লাখ, অবৈধ চার্জে বছরে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি টাকা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আমি দেশে ফেরার জন্য নির্দেশনা দিয়ে কাউকে বিপদে ফেলতে চাই না’ ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ছাড় নয়’— দক্ষিণ কোরিয়াকে হুঁশিয়ারি ইরানের

আমার ভেতরে ২৫ ভাগ বাঙালির রক্ত ​​জ্বলজ্বল করছে : হৃতিক

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬

গ্রিক গড-এর মতো চেহারা, সুঠাম দেহ আর মায়াবী চোখ— এই দিয়েই তো গত আড়াই দশক ধরে বলিউড শাসন করছেন হৃতিক রোশন। কিন্তু এই সুপারস্টারের শরীরেও যে মিশে আছে ২৫ শতাংশ খাঁটি বাঙালির রক্ত, সে কথা কজন জানতেন? সম্প্রতি বছরের শুরুতে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে হৃতিক নিজেই মনে করিয়ে দিলেন তাঁর শিকড়ের কথা। ক্যাপশনে লিখলেন, “বোধহয় এভাবেই আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত বইছে।”

শিকড়ের টানে কলকাতা থেকে মুম্বাই হৃতিকের এই বাঙালি সত্তার যোগসূত্র তাঁর দাদি— ইরা রোশন।

বিয়ের আগে যিনি ছিলেন কলকাতার মেয়ে ইরা মৈত্র। বিশ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কলকাতা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই আলাপ প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। সেই আলাপই পরে পরিণয়ে রূপ নেয়।

‘ডুগগু’ নামের সেই ছোট্ট ছেলেটি পরিবারে ইরা ছিলেন বটগাছের মতো। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশনের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু’। সেই নামের সঙ্গে মিলিয়ে আদরের নাতির নাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন দাদি ইরা-ই।

মুম্বাইয়ের চাকচিক্যের মাঝেও নাতিকে তিনি বড় করেছিলেন বাঙালি আদব-কায়দায়। হৃতিক তাঁকে আদর করে ডাকতেন ‘ঠামি’। পিয়ানো বাজানো থেকে শুরু করে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়ানো— হৃতিকের শৈশব ছিল এক টুকরো বাংলাতেই ঘেরা।
জানুয়ারি মাসটি হৃতিকের জীবনে সবসময়ই একটু বেশি স্পেশাল। এই মাসেই তাঁর জন্মদিন, এই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’।

আর অদ্ভুতভাবে, তাঁর জীবনের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও ছিল এই কলকাতার বুকেই। বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা বলতে পারলেও হৃতিকের জিভে সেই টান নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁর রুচিতে আজও মিশে আছে ‘ঠামি’-র হাতের রান্না করা সেই মাছের স্বাদ।

২০০৫ সালে জীবনাবসান হয় ইরা রোশনের। শৈশবের সেই নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতিগুলো হৃতিক সযত্নে আগলে রেখেছেন। আজও যখন এই বলিউড তারকা বাঙালি সংস্কৃতির স্পর্শ পান, তাঁর রক্ত যেন চনমন করে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সেই স্বীকারোক্তি কেবল একটি ক্যাপশন নয়, বরং এক নাতির পক্ষ থেকে তাঁর ‘ঠামি’-কে দেওয়া এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

৫২-তে পা রাখা হৃতিক বুঝিয়ে দিলেন, যতই তিনি বলিউডের ‘ডুগগু’ বা ‘গ্রিক গড’ হন না কেন, তাঁর হৃদয়ের একটা কোণ আজও সেই মৈত্র বাড়ির মেয়েটির জন্যই বরাদ্দ।

 

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD