কক্সবাজারে নারী পর্যটককে গণধর্ষণের হোতা আশিকুল ইসলাম আশিক ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের গডফাদার হয়ে উঠেছেন। জেলার সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল হোতা আশিকের নেতৃত্বে অন্তত তিন ডজন অপরাধীর চক্র এখন সক্রিয়। আশিকের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল হোতা হয়ে ওঠার পেছনে কে?
অভিযোগ রয়েছে, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তার এই বাড়বাড়ন্ত। পর্যটন এলাকার ত্রাস বলা হয় তাকে। পুলিশ বলছে, কেবল কক্সবাজার সদর থানায়ই অস্ত্র, ইয়াবা, ছিনতাইসহ অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মাঝেমধ্যে কারাগারে গেলেও বের হয়ে আবার অপরাধ জগতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এই আশিক।
কক্সবাজারে আশিকের সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূল হোতা হয়ে ওঠার পেছনে যাদের হাত রয়েছে তাদের মধ্যে প্রথমেই আসে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের নাম। জেলায় নিজের আধিপত্য বিস্তারে আশিকের গ্রুপকে প্রশ্রয় দিতে শুরু করে।
২১ ডিসেম্বর রাতেও সাদ্দামের সঙ্গে দীর্ঘ আড্ডায় মেতেছিল ধর্ষক আশিক ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। বাহারছড়া ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশে এই আড্ডায় আশিক, জয়, রেশাদ, মোবারক সবাই ছিল। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম সেন্টমার্টিন চলে যান। আর ন্যক্কারজনক এই ঘটনা ঘটে ২২ ডিসেম্বর রাতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্যটন এলাকা কলাতলিতে ইয়াবা ব্যবসা, ছিনতাই, অপহরণসহ সব ধরনের অপকর্ম হয় আশিকের নেতৃত্বে।
জানা গেছে, আশিক গংরা এক সময় ছাত্রদল করত। সাদ্দাম নেতা হওয়ার পর ক্ষমতা জানান দিতে এবং নিজের ভিত্তি মজবুত করতে ওদের আশ্রয়দাতা হয়ে ওঠেন। কক্সবাজার শহরের বাইরে বাড়ি হওয়ায় আধিপত্যের বিচারে সাদ্দাম কিছুটা দুর্বল ছিল। ফলে ছাত্রদলের হলেও জয়, আশিক গংয়ের নিজের করে নিতে কোনো দ্বিধা ছিল না তার।
জেলা ছাত্রলীগের একজন নেতা বলেন, এই ঘটনার পর ধর্ষক গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য মোবারকের নামে মামলা হলে সাদ্দাম সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে নিজেকে মামলা থেকে বাঁচাতে। ঘটনার পর ধর্ষকদের কয়েকজনের সঙ্গে সাদ্দামের ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সাদ্দামের দাবি, ওদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।
সাদ্দাম বলেন, ‘ছবি থাকাই ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে না। আমাদের সঙ্গে অনেকেই ছবি তুলতে চায়। আমরা নিষেধ করি কীভাবে।’
তার দাবি, আশিক, জয়, মোবারক, রেশাদ, বিজয় কাউকেই তিনি চেনেন না। ওরা ছাত্রলীগের কোনো পর্যায়ের নেতাও নয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজার পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন, অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা যত ক্ষমতাশালী হোক না কেন প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।