বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচের টিকিটের দামে আগুন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বিশ্বজোড়া উন্মাদনা। তবে সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড, তখন সে উন্মাদনা রূপ নেয় রূপকথায়। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই এই হাই ভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে গ্যালারির টিকিটের বাজারে লেগেছে আগুন। দর্শক চাহিদার পারদ এতটাই তুঙ্গে যে, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের বহু বাইরে চলে গেছে টিকিটের মূল্য।

এই ম্যাচের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পেছনে কাজ করছে এক আবেগঘন সমীকরণ। ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের এটাই হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। আর্জেন্টিনা হেরে গেলে অবশ্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বাকি থাকবে। তবে সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ মঞ্চের আবহ আর স্থান নির্ধারণী ম্যাচের লড়াই যে এক নয়, তা ভালো করেই জানেন সমর্থকরা। ফলে প্রিয় তারকার শেষ মুহূর্তের জাদু দেখার জন্য যেকোনো মূল্য চুকাতে প্রস্তুত তারা।
টিকিট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে প্রতি মিনিটে টিকিটের দাম ওঠানামা করছে। সবচেয়ে কম দামি ‘ক্যাটাগরি ৩’ টিকিটের মূল্যই ঠেকেছে দুই হাজার ৬০০ ডলারের উপরে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় তিন লাখ টাকার বেশি! আর ভিআইপি বা সবচেয়ে দামি টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এই দামের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয় টুর্নামেন্টের অন্য ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে। কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি ছিল পুরো বিশ্বকাপের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা, যার সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল ৮০০ ডলার। এমনকি ডালাসে অনুষ্ঠিত ফ্রান্স-স্পেন প্রথম সেমিফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম যেখানে ফিফার ওয়েবসাইটে এক হাজার ৩০০ ডলার ছিল, সেখানে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের টিকিটের দাম ঠিক তার দ্বিগুণ। অবশ্য সমর্থকদের মধ্যকার ব্যক্তিগত লেনদেনে ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের টিকিট আরো কিছুটা কমে বিক্রি হয়েছে। কারণ, সেখানে ফিফার ৩০ শতাংশ বাড়তি কমিশন গুনতে হচ্ছে না।

বিশ্বকাপে টিকিটের কালোবাজারি নতুন কিছু না হলেও এবারই প্রথম একে ‘বৈধ পুনর্বিক্রয়’ বা অফিসিয়াল রিসেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ফিফা। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামোর সুযোগ নিয়ে এনবিএর মতো স্থানীয় লিগগুলোর ব্যবসায়িক মডেল অনুকরণ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ফিফার নতুন এই ব্যবসায়িক কৌশলে ফুটবলপ্রেমীদের পকেট কাটলেও সংস্থার আয় বেড়েছে বহুগুণ। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অনুমান করা হয়েছিল, এই বৈধ পুনর্বিক্রয় খাত থেকেই ফিফার লাভ হবে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার, যা কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের চেয়ে তিনগুণেরও বেশি। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মেসিরা হাসবেন নাকি ইংলিশরা, তা সময়ই বলে দেবে। তবে টিকিট বাজারের এই যুদ্ধ ইতোমধ্যেই ফুটবলের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় লিখে ফেলেছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD