রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন

ইরানের পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’, দাবি আরাগচির

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬

‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ কারণে ইরানের বিক্ষোভ ‘সন্ত্রাসী যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরগাচি। বর্তমানে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে বলেও দাবি করেছেন ।

তিনি আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সংলাপ কিংবা যুদ্ধ’ যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত তার দেশ।

আজ সোমবার রাজধানী তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে সৈয়দ আরাগচি বলেন, “ইরানে যা হচ্ছে, তা আর বিক্ষোভ নেই— সন্ত্রাসী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা এই দেশ নাশকতা চালাচ্ছে, সাধারণ লোকজন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে।”

“আর এই সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে দেশের বাইরে থেকে। এমন বেশ কয়েকটি অডিও ক্লিপ বর্তমানে আমাদের হাতে এসেছে, যেখানে নাশকতা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

“তবে এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার এবং সামরিক বাহিনী সবসময়েই তৎপর। সন্ত্রাসীরা কখনও জিততে পারবে না। সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে।”

ইরানের বিক্ষোভে বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য সরাসরি ট্রাম্পকে দায়ী করে আরাগচি বলেছেন, “মূলত ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেই উৎসাহী হয়েছে বিদেশি সন্ত্রাসীরা। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই, যুদ্ধ কিংবা সংলাপ— যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত।”

গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে।

এই আন্দোলন বিক্ষোভের প্রধান কারণ অর্থনীতি। বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।

জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।

এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভের পক্ষে দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার নিষ্ঠুর পন্থায় বিক্ষোভ দমনের উদ্যোগ নিলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হবে— এমন হুমকি কয়েকবার দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD