বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন

ইরানে গোপনে বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালে সৌদি আরবে হামলার জবাবে ইরানের ভেতরে একাধিক গোপন বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। দুইজন পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুইজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি প্রথমবারের মতো জানা গেল যে সৌদি আরব সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় রিয়াদ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থানে যাচ্ছে।

পশ্চিমা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মার্চের শেষ দিকে সৌদি বিমান বাহিনী এসব হামলা চালায়। তবে কোন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরবে হামলার জবাবেই পাল্টা এই আঘাত হানা হয়।

এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি হামলার কথা স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘদিন নির্ভরশীল সৌদি আরব সাম্প্রতিক ১০ সপ্তাহের সংঘাতে নিজেকে ঝুঁকির মুখে দেখতে শুরু করে। কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের সামরিক ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধাক্কা লাগে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে। সৌদি ও আমিরাতের পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরানি হামলার শিকার উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো এবার পাল্টা জবাব দেওয়া শুরু করেছে।

তবে দুই দেশের কৌশলে পার্থক্যও ছিল। আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নেয় এবং ইরানের ওপর সরাসরি চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করে। বিপরীতে সৌদি আরব প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।

পশ্চিমা ও ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলার পর সৌদি আরব ইরানকে বার্তা দেয় যে প্রয়োজনে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা গড়ে ওঠে।

আলি ভাইজ বলেন, পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা প্রশমনের সমঝোতা দেখায় যে উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ যুদ্ধে ঠেলে দিতে পারে।

এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে, পরে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিও প্রতিষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যথাক্রমে সুন্নি ও শিয়া শক্তির প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। তারা বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পর থেকে উত্তেজনা কিছুটা কমেছিল।

মার্চের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। কিন্তু এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২৫-এ নেমে আসে বলে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে। পশ্চিমা সূত্রগুলোর ধারণা, পরবর্তী হামলাগুলোর বেশিরভাগই ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলো চালায় এবং তেহরান সরাসরি হামলা কমিয়ে আনে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির শুরুর দিকেও সৌদি আরবের দিকে আবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে রিয়াদ নতুন করে পাল্টা হামলার কথা বিবেচনা করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান সৌদি আরবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং সব পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানায়।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD