২০২৫ সালের ১৩ই জুন ইসরায়েলের তেল আবিবের ওপর ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর চেষ্টা করছে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ছবি : এপি
হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ফের হিজবুল্লাহর ওপর হামলার জের ধরে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে ইরান। এ নিয়ে ইসরায়েলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাতে রবিবার সন্ধ্যায় টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর আইডিএফ চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির “সংশ্লিষ্ট সব কমান্ডারের সঙ্গে” পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন। বর্তমান মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, “আইডিএফ বিভিন্ন ধরনের প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রেখেছে। আইডিএফ ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের দিকে কোনো ধরনের গোলাবর্ষণ বরদাস্ত করবে না।”
নতুন করে মূল্যায়নের পর আইডিএফ হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, তারা দেশব্যাপী জনসমাগম পাঁচ হাজার জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করছে।
উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বর্তমান নির্দেশিকায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি, যা অনুযায়ী বাইরে ১০০ জন এবং ভেতরে ৪০০ জনের বেশি লোক সমাগম করা যাবে না। সারাদেশে স্কুলগুলো এখনও চালু রাখার অনুমতি রয়েছে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য চুক্তি সই হতে পারে এমন সম্ভাবনার মধ্যেই এদিন লেবাননের রাজধানী বৈরুতের শহরতলিতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। হামলায় কয়েকজনের প্রাণহানির পাশাপাশি অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহেও ইসরায়েল যখন বৈরুতের শহরতলিতে হামলা চালিয়েছিল, তখন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইরান সরাসরি ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি ছাড়াও সামরিক সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে সেই ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বৈরুতে হামলার জন্য ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন, ভবিষ্যতে লেবাননের কোনো অংশে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর আর কোনো হামলা চালানো উচিত নয়।
“বৈরুতের ওপর আজ সকালের হামলাটি হওয়া উচিত ছিল না, বিশেষ করে এমন একটি বিশেষ দিনে যখন আমরা ইরানের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি আছি,” ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন। তবে তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সত্যিই স্বাক্ষরিত হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কোনো ঘোষণা দেননি।
ট্রাম্প বলেন, “হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের আছে। কিন্তু যে হামলার জবাব তারা দিচ্ছিল তা ছিল খুবই ছোট ও অর্থহীন, এতে কেউ আহত বা নিহত হয়নি এবং এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি ব্যাহত করা উচিত নয়।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে বৈরুতকে লক্ষ্যবস্তু করে ইসরায়েল বাড়াবাড়ি করেছে।