পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন ই১ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাজ্যসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নেওয়া সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।
মিয়ামিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রুবিও বলেন, ‘স্পষ্টতই আমরা যুক্তরাজ্য যা করেছে, তা করতে যাচ্ছি না।’ যুক্তরাজ্যের ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান তিনি।
তবে পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রুবিও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমনিতেই অনেক কিছু ঘটছে। এ অবস্থায় পশ্চিম তীরে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক, যা আরও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, তা যুক্তরাষ্ট্র চায় না।
তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে সহিংসতা বা উত্তেজনা বেড়ে গেলে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে অগ্রগতি অর্জনের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা এবং ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বসতি-সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার জবাবে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে রুবিও সরাসরি কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন আগে থেকেই অবগত ছিল এবং সিদ্ধান্তটির পক্ষে ব্রিটিশ সরকারের যুক্তিও যুক্তরাষ্ট্র শুনেছে।
রুবিও বলেন, পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয়েরই রয়েছে। এই স্পর্শকাতর সময়ে সেখানে সহিংসতা, সংঘাত বা উত্তেজনা বাড়ুক এটি কোনো পক্ষই চায় না।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য বসতিগুলো থেকে পণ্য ও নির্দিষ্ট কিছু সেবা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়ায় পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল