বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১০ অপরাহ্ন

এক মাসে ৩৫ লাখ শিশুকে দেওয়া হবে হামের টিকা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬

দেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। এবার টিকাদান কর্মসূচি থেকে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যে আগামী এক মাসে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রত্যন্ত চরাঞ্চল—বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকা দেওয়াই এবারের বিশেষ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

বুধবার (৭ অক্টোবর) হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত।

তিনি বলেন, হাম প্রতিরোধে সরকারের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, সিটি করপোরেশন এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সারা দেশে দুই কোটি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে এখানেই কর্মসূচি শেষ হচ্ছে না জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশুও যেন টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। এ কারণেই এবারের কর্মসূচিকে ‘মপ-আপ ক্যাম্পেইন’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, আগের ধাপের টিকাদান কর্মসূচি থেকে কোনো কারণে বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিশুদেরও এবার বিশেষভাবে খুঁজে বের করা হচ্ছে।

এর আওতায় প্রতিবন্ধী শিশুদেরও টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা এসব শিশুর বাড়ি বাড়ি পৌঁছে টিকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি শিশুর কাছে পৌঁছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক মাসে আরও প্রায় ৩৫ লাখ শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন।

তিনি জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা কিংবা প্রত্যন্ত চরাঞ্চলেও বসবাসকারী শিশুদের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব এলাকায়ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার, গ্যাভি, ইউনিসেফ এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছেন। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান ও মাঠকর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সবার সহযোগিতা ছাড়া এত বড় পরিসরের টিকাদান কর্মসূচি সফল করা সম্ভব হতো না। মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দুর্গম এলাকা পর্যন্ত গিয়ে শিশুদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় আনছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন টিকাদান কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

তার ভাষ্য, শিশুদের টিকাদানের মাধ্যমে হাম ও রুবেলার মতো রোগ প্রতিরোধে চলমান উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD