দেশে বেড়েই চলছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। আর রাজধানীতে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। সাধারণ ছুটি শেষে ‘সীমিত’ পরিসরে সব খুলে দেওয়ার পর, সংক্রমণের হার মোটেও ‘সীমিত’ নেই আর। এ আতঙ্কের মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা তাদের। বিশেষ করে মাস্ক পরতে এখনও অনেকের আপত্তি। ‘ঠুনকো’ যুক্তি দিয়ে মাস্ক না পরার কারণ ব্যাখা করতে দেখা গেছে তাদেরকে।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা, পল্টন মোড়, সেগুনবাগিচা, কাকরাইল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক মানুষ মাস্ক না পরেই চলাচল করছেন।
যদিও সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে মাস্ক ব্যবহারের কথা বলা রয়েছে। সেসঙ্গে মাস্ক না পরলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাস্ক না পরার কারণে জরিমানাও গুনতে হয়েছে অনেককে। তারপরও টনক নড়েনি অসচেতন মানুষের।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে কথা হচ্ছিলো মাস্ক না পরা একজনের সঙ্গে। নাম জানতে চাইলে সেটির উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হয়েছি। আমার বাসা সেগুনবাগিচায়। বায়তুল মোকাররমের সামনে থেকে খেজুর কিনবো। এ কারণে মাস্ক পরা হয়নি।
পল্টন মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষারত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, ভাই, আমার অ্যাজমার সমস্যা আছে। মাস্ক পরলে দম বন্ধ হয়ে আসে। তারপরও মাস্ক পরি। কিন্তু এত গরমে মাস্ক পরার কারণে খুব কষ্ট হচ্ছিলো। সে কারণে খুলে রেখেছি।
একই কথা বললেন হাজী আসলাম। সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের সামনে কথা হচ্ছিলো তার সঙ্গে। বললেন, আমার মাস্কটা মোটা। পাতলা মাস্কের দাম অনেক। সেটার চেয়ে বড় কথা কতক্ষণ মাস্ক পরে থাকা যায়?
মাস্ক পরিধান করা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে বড় হাতিয়ার বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, অজ্ঞান, প্রতিবন্ধী ও দুই বছরের নিচে শিশু, এ তিন শ্রেণীর মানুষ বাদে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। মনে রাখতে হবে মাস্কই করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বড় হাতিয়ার।
তিনি বলেন, আমাদের বাসায় থাকা বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে যাওয়ার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। সেগুলো হলো, বাইরে থেকে আসার পর অবশ্যই তাদের সামনে মাস্ক পরে যেতে হবে। সেসঙ্গে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে যেতে হবে।