নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে একসঙ্গে ছয়টি এসির বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ও রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মিলে মারা গেছেন ৫ জন। তারা সবাই রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, বার্ন ইনস্টিটিউটে বাকি ১৪ জন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, তাদের সবার অবস্থা সংকটাপন্ন। প্রত্যেকেরই শ্বাসনালি, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে।
শ্বাসনালি পুড়ে যাওয়ায় তারা কেউ আশঙ্কামুক্ত নন। এদের মধ্যে চারজনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে বলেও জানান ডা. সামন্ত লাল সেন।
নিহত ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জনের দাফনও সম্পন্ন হয়েছে।
নিহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন- মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক (৬০), ভোর রাতে মারা যাওয়া শামীম হাসান ও জুলহাস, মোস্তফা কামাল (৩৪), নারায়ণগঞ্জ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রিফাত (১৮), গার্মেন্টকর্মী মো. রাসেদ (৩০), হুমায়ুন কবির (৭০), গার্মেন্টকর্মী ইব্রাহীম বিশ্বাস (৪৩), জুয়েল, সাব্বির (২১), মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫) ও তার সন্তান জুনায়েদ (১৬), চাকরিজীবী মো. জামাল আবেদিন (৪০), কুদ্দুস ব্যাপারী (৭২), পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন (১২), জয়নাল (৫০), কাঞ্চন হাওলাদার, গার্মেন্টকর্মী নয়ন, ৭ বছরের শিশু জুবায়ের, ওয়ার্কশপ শ্রমিক রাসেল (৩৪) ও মো. বাহাউদ্দিন (৫৫), মো. মিজান (৪০), মসজিদের ইমাম আবদুল মালেক নেসারি (৫৫), শামীম হাসান ও ফটো সাংবাদিক নাদিম হোসেন (৪৫)।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এশার নামাজের সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। ফরজ নামাজের মোনাজাত শেষে অনেকে সুন্নাত ও অন্য নামাজ পড়ছিলেন। এসময় মসজিদের ভেতরে প্রায় ৪০ জনের মতো মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণে তাদের প্রায় প্রায় সবাই দগ্ধ হন।
লাইটনিউজ/এসআই