শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
কক্সবাজারে ১৪৪ ধারা জারি থাইল্যান্ডের ভিসানীতিতে পরিবর্তন: বাংলাদেশিদের জন্য কী জানা জরুরি? ‘পুলিশের লোকের ধাওয়া খেয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয় তাহসিফ, আমি পালিয়ে আসি’ এক এনআইডিতে মিলবে ৫ রিকশার নিবন্ধন, আবেদন করবেন যেভাবে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে না নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা, জোট ছাড়ার ঘোষণা কট্টরপন্থি ইহুদি দলের এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ ৪ দিনের জাপান সফর শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সাড়ে চার বছর পর জ্যেষ্ঠতাসহ দুদকের চাকরি ফিরে পাচ্ছেন সেই শরীফ দুই ভাইয়ের চালচলনে গ্রামবাসীর সন্দেহ, বাড়ির মেঝের নিচে মিলল কোটি-কোটি টাকা

কক্সবাজারে ১৪৪ ধারা জারি

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে আসা গ্যাসে লাগা আগুন চার দিন ধরে অবিরাম জ্বলছে। দিন-রাত জ্বলতে থাকা আগুন নিয়ন্ত্রণে আপাতত কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং গ্যাসের প্রবাহ ও চাপ পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। এদিকে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটখাল সেতুসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া ও লাল পতাকা বসানো হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পান্না আক্তার ১৪৪ ধারা জারি করে ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও অবস্থান নিষিদ্ধ করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

প্রশাসনের নির্দেশনায় ওই এলাকায় আগুন জ্বালানো, ধূমপান, দিয়াশলাই কিংবা লাইটার ব্যবহারসহ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে পারে—এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আগুন নেভানো বা গ্যাস বন্ধে আপাতত নিষেধাজ্ঞা

গ্যাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকলেও তা বন্ধ করা কিংবা আগুন নেভানোর চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের আশঙ্কা, ভূগর্ভ থেকে গ্যাস বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিলে মাটির নিচে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। একপর্যায়ে সেই চাপ বিস্ফোরণের কারণ হতে পারে। এমনকি ভূগর্ভের অন্য কোনো ফাটল দিয়ে গ্যাস বেরিয়ে নতুন বিপদের সৃষ্টি করতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ না করে আপাতত স্বাভাবিকভাবে নির্গমন পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে পেট্রোবাংলায় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস)-এর সভাপতিত্বে বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে আপাতত গ্যাসের প্রবাহ বন্ধ করা কিংবা আগুন নেভানোর চেষ্টা না করার সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের উৎস, প্রকৃতি ও সম্ভাব্য মজুত সম্পর্কে জানতে নমুনা সংগ্রহ করেছে বাপেক্স। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৫ দিন গ্যাসের প্রবাহ পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ সময় গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের মাত্রা পর্যালোচনা করবেন বিশেষজ্ঞরা। ১৫ দিনের মধ্যে গ্যাসের প্রবাহ কমে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাবেষ্টনী নির্মাণ এবং ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

চার দিন ধরে গ্যাসের আগুন জ্বলতে থাকায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতা জোরদার করেছে প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD