আমেরিকায় করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিনের ব্যাপক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে জুলাই মাসের মধ্যে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মডার্না নামের বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি তাদের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা এর মধ্যেই শেষ করেছে। ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর মধ্যে এই ভ্যাকসিন ব্যাপকভাবে জুলাই মাসেই পরীক্ষা করা হবে। ফলাফল অনুকূল হলেই তা বাজারে ছাড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ওষুধ উৎপাদনকারী মডার্না গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছে। কোম্পানির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রকৃত ভ্যাকসিনটি কিছু স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা করা হবে। কিছু স্বেচ্ছাসেবীকে ডামি ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক পরীক্ষায় ভ্যাকসিনটি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পরীক্ষায় ইতিবাচক প্রমাণিত হলে ব্যাপকভাবে তা বাজারে ছাড়া হবে।
মডার্না গত মধ্য মার্চে ভ্যাকসিন করোনা ভাইরাসের উৎপাদনে হাত দেয়। প্রাথমিকভাবে ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এ ভ্যাকসিনটি পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যেই আরও ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর ভ্যাকসিনটির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভ্যাকসিনের বিভিন্ন ডোজে লোকজনের ইম্মিউন সিস্টেমের ওপর চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য ব্যাপকভাবে স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে এখন।
বিশ্বজুড়ে অন্তত এক ডজন ওষুধ কোম্পানি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও উৎপাদনের জন্য কাজ করছে। মডার্না ছাড়া যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি ভ্যাকসিন এই গ্রীষ্মের মধ্যেই বাজারে আসার কথা রয়েছে। কোন ভ্যাকসিন কাজ করবে কি না, এ নিয়ে এখনো কোন নিশ্চয়তা নেই। স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণের পরই তা জানা যাবে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের পরিচালক ডা জন মাস্কোলা বলেছেন, সবকিছু ভালো গেলে ভ্যাকসিনটি সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। আমেরিকা ‘অপারেশন রেপ আপ’ নামের কর্মসূচির মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন ভ্যাকসিন জানুয়ারি মাসের মধ্যে মজুত করবে বলে আগেই ঘোষণা দিয়েছে।