পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেয়ে তাণ্ডব শুরু করেছে বিজেপির সমর্থকরা। কলকাতার নিউমার্কেট চত্বরের হক মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় এবং মাংসের দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি কলকাতা নিউমার্কেট চত্বরের বিভিন্ন ছোট ছোট ব্যবসায়ী এবং রাস্তার হকারদের দোকানও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় ভোট পরবর্তী সহিংসাতা বেশ কিছু প্রাণহানি হয়েছে। ভোট পরবর্তী এসব সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৪ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে বিজেপি পতাকা লাগানো বুলডোজার নিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পেছন থেকে একদল বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা নিউমার্কেট এলাকায় পৌঁছে যায়।
এরপর সেখানকার তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়সহ এক মাংস বিক্রেতার দোকান গুড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত নিউমার্কেট চত্ত্বরের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায় গেরুয়া বাহিনী। এই বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন নিউমার্কেট চত্বরের হকাররা।
এই ঘটনার পরেই কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, কোনো গুজবে কান দেবেন না, বুলডোজার নিয়ে মিছিল করা যাবে না।
পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বিজয় মিছিল করতে হবে অন্যথায় সেই মিছিল আটকানো হবে। আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হলেই কড়া পদক্ষেপ করা হবে। এছাড়াও পুলিশের কর্তব্য গাফিলতি হলেও কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না।
অজয় নন্দা আরও বলেন, বুলডোজার বা এই ধরনের কিছু নিয়ে কোনো মিছিল করা যাবে না। যারা মিছিল করেছেন শুধু তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি এর দায় বুলডোজারের মালিকেরও নিতে হবে। যিনি যন্ত্র ভাড়া দিচ্ছেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেই মেশিন সিজ।
এসব সহিংসতা দমনে ৬৫ কোম্পানি বাহিনী কলকাতায় মোতায়েন করা রয়েছে। ২৪০ টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করছে কলকাতায়। খোলা রয়েছে কন্ট্রোলরুম।
তবে নিউমার্কেটের বুলডোজার নামিয়ে দোকান ভাঙার অভিযোগের বিষয়ে অজয় নন্দা বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। যারা সেখানে ছিলেন সেই পুলিশ কর্মীদের ভূমিকা ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।