মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে সুখবর এবার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ঘিরে রেখেছে এসআরবি দর্শকদের তথ্য বিক্রি করে আয় করতে চায় আইসিসি মধ্যপ্রাচ্য ছাড়তে বাধ্য হবে যুক্তরাষ্ট্র, হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির বাংলাদেশ-পাকিস্তানে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে কাতার কারফিউ দিয়ে মানুষ হত্যায় হাসিনা, কামরুল ও মেননের শাস্তি চাইলেন গুলিবিদ্ধ হান্নান ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ দুই কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা বিপিডিবির সেই নির্বাহী প্রকৌশলী বরখাস্ত হরমুজ থেকে আরব সাগরে পিছু হটেছে শত্রুরা, সেখান থেকেও তাড়াব: মোজতাবা খামেনি সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় সাহস কারও নেই— ডা. শফিকুর রহমান

কারফিউ দিয়ে মানুষ হত্যায় হাসিনা, কামরুল ও মেননের শাস্তি চাইলেন গুলিবিদ্ধ হান্নান

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জুলাই বিপ্লবে কারফিউ জারি করে ছাত্রজনতার ওপর গণহত্যা চালানোর ঘটনায় পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ তিনজনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা হান্নান মিয়া। অপর দুজন হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি শেষে এ দাবি জানান তিনি।

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কামরুল-মেননের বিরুদ্ধে চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন হান্নান।

জবানবন্দিতে মো. আব্দুল হান্নান বলেন, আমার বর্তমান বয়স ৪০ বছর। আমি ঘোষিত গেজেটে খ শ্রেণির জুলাইযোদ্ধা। ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ধানমন্ডি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে বাড্ডায় ফেরার পথে দেখি রাজু ভাস্কর্যের অসংখ্য ছাত্রজনতা কোটা ও বৈষম্য নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, পুলিশ তাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। তখন আমার মন খারাপ হয়ে যায়। আমি ছাত্রজনতার এই যৌক্তিক আন্দোলনে শরিক হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৮ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পাশে দেখতে পাই দুই থেকে তিন হাজার ছাত্রজনতা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিল। তখন আমি আন্দোলনে অংশ নিই। কিছুক্ষণ পর বাড্ডা থানার ভেতর থেকে ৬০-৬৫ জনের একটি পুলিশের দল এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ ছাত্রজনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে। আন্দোলনকারীরা তখন ছত্রভঙ্গ হয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। পরে ৫-৬ জন আন্দোলনকারী রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি।

জবানবন্দিতে এই জুলাইযোদ্ধা বলেন, ১৯ জুলাই একই জায়গায় আন্দোলনে অংশ নিলে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী নির্বিচারে ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালায়। তখন ১০-১২ জন ছাত্রজনতা রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখি। ওই দিন মোবাইল ফোনে অনলাইনে দেখতে পাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৪ দলের বিভিন্ন নেতারা গণভবনে মিটিং করেন। তাদের মধ্যে রাশেদ খান মেনন ও সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। মিটিং শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মিডিয়ার সামনে কারফিউয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। ছাত্ররা মাঠে নামলেই তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। তার পাশে ছিলেন মেনন, কামরুল ও আমির হোসেন আমু। ওই সময় গুলির নির্দেশকে পূর্ণ সমর্থন করেন রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ২০ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিলে আবারও পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ছাত্রজনতার ওপর গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ২-৩ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাড্ডা ইউলুপের গোড়ায় একজন ব্যক্তি রক্তাক্ত মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে সন্ধ্যার পর লোকমুখে শুনতে পাই, ওই দুজন মারা গেছে।

জবানবন্দিতে হান্নান আরও বলেন, ৫ আগস্ট বেলা ১১টায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে ছাত্রজনতার সঙ্গে ‘লং মার্চে’ যোগ দেওয়ার জন্য অবস্থান করি। ওই দিন রামপুরা ব্রিজের দিক থেকে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আওয়ামী লীগের লোকেরা গুলি ছুড়লে একটি গুলি আমার বাম পায়ের গোড়ালির উপরে বিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আমি রাস্তার উপরে পড়ে যাই। এরপর আওয়ামী লীগ এবং পুলিশ এগিয়ে এলে তখন ছাত্রজনতা বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। তখন আওয়ামী লীগের লোকজন আমাকে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকে। এতে আমার মাথা ও কপাল ফেটে যায় এবং আমার বাম কাঁধের হাড় ভেঙে ঝুলে যায়। পরে আন্দোলনকারীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ১৪ দলের নেতারা, বিশেষ করে কামরুল ইসলাম, রাশেদ খান মেননসহ যারা কারফিউ দিয়ে ছাত্রজনতাকে হত্যা, নির্যাতন ও আহত করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD