গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি ও পিডব্লিউডি বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতাদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে এ দপ্তরটিতে আগে থেকেই। সেই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নেতারা সুযোগে অনিয়ম- দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য, ঘুষ বাণিজ্য, কমিশন বাণিজ্য, বদলি বানিজ্য, পদোন্নতি দিয়ে কোটিপতি হওয়ার খবর পাওয়া যায় গেল সরকারের সময়ই।
সিন্ডিকেটের নেতা গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও বর্তমানে বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি’র কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েল। তিনি সাবেক ছত্রলীগ নেতাও বটে। এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী চাকরীর বয়স ২০ বছর। এ ২০ বছরেই তার গাড়ী-বাড়ি, প্লট, ফ্লাটসহ নামে-বেনামে প্রায় ২০-২৫ কোটি টাকার অবৈধ-সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে প্রকৌশলীদের মুখে মুখে।
জানা গেছে, উপ সহকারী প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েলের অনিয়ম-দুর্নীতির স্বৈরাচারের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমুর নিকটাত্মীয় পরিচয়ে
আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরে ব্যাপক ক্ষমতা অপব্যবহারের অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
খুঁটির জোড়, প্রভাব ও ক্ষমতা জাহির করতে তার হাতে শারীরিকভাবেও নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও নেতারা। উচ্ছৃঙ্খল এই উপ সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েম জুয়েলকে গত ৩ জুলাই গণপূর্ত বিভাগ- ৪ এ অধীনে রেলওয়ে ডাইভারশন উপ বিভাগে বদলী করা হয়। তার এই বদলী আদেশ নিয়ে গোটা অধিদপ্তর জুড়ে রয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছিল সে সময়ে।
গত মে মাসের পর থেকে ঢাকার বিভিন্ন ডিভিশন সার্কেল জোন থেকে উপ সহকারী প্রকৌশলী, যারা একই চেয়ারে ৫ বছরের অধিক সময় ধরে বহাল আছে তাদেরকে বদলী করে অধিদপ্তর। তার এই বদলীর পেছনে এনসিপি’র নেতা হাসনাত আব্দুল্লার শশুর তদবীর করেছেন বলে তিনি নিজেই বন্ধু মহলে বলেছেন। শেষদিকে হাসনাত আব্দুল্লার শশুরের মাধ্যমে একজন জামায়াত নেতাও সুপারিশ করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপ সহকারী প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েল ডিপ্লোমা পড়ার সময়ে ছাত্রলীগের একজন তুখোর নেতা ছিলেন। ২০০৬ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ সহকারী প্রকৌশলী পদে চাকরিতে যোগদান করেন। এর পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে কোটিকোটি টাকা মালিক বনে গেছেন।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নেতা ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী টিপু মুন্সি থেকে শুরু করে বড় বড় প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশল, মন্ত্রী, এমপি, এমনকি গেল সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ছিল সু-সম্পর্ক।
কর্তাদের আর্শিবাদে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর, মতিঝিল, ইডেন, মিরপুর গণপূর্ত বিভাগসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডিভিশনে ঘুরেফিরে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। স্বৈরাচার লীগ সরকারের সময়ে সাবেক ছাত্রলীগের নেতা পরিচয়ে দিতের গণপূর্ত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরকে। তার অত্যাচার নির্যাতনে মান-সম্মানের ভয়ে অনেক নীরিহ প্রকৌশলী ঢাকা থেকে পোস্টিং নিয়ে বাইরে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ছিলেন বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা। বুকে নৌকা ব্যাজ লাগিয়ে ঘুরতেন গণপূর্ত অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও বড় বড় নেতাদের বাসায়। ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ এবং প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধুর মাজারে গেছেন তিনি বেশ কয়েকবার।
অথচ সময়ের পরিবর্তনে ভোল পাল্টে জার্সি পরিত্যাগ করে তিনিই এখন জাতীয়তাবাদী ছাত্র নেতা।
একটি সূত্র জানায়, পদ-পদবীকে ব্যবহার করে দু’হাতে টাকা কামিয়ে রাজধানীতে বনশ্রীতে দুটো আলীশান এপার্টমেন্ট, কয়েক বন্ধু মিলে ডেভেলপার ব্যবসা, নিজ জেলা পটুয়াখালীতে প্রায় অর্ধশত বিঘা ফসলি জমিসহ নামে-বেনামে পাহাড় সমান ধন-সম্পদের মালিক বনে গেছেন। চলাফেরা করেন নিজস্ব প্রাইভেটকারে। ছেলে মেয়ে পড়েন নামি-দামি স্কুলে।
আরও জানা যায়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মিরপুর ডিভিশনে চুক্তিমূল্যের ৫৫% থেকে ৬০% টাকা তিনি রেখে দিতেন। প্রায় ৭ বছর মিরপুর ডিভিশনে থাকাকালীন পাইকপাড়া ও শিয়ালবাড়ি এপার্টমেন্ট প্রকল্পে ঠিকাদারকে কাজ না হওয়া সত্বেও অগ্রীম বিল দিয়ে ১.৫% থেকে ২% হিসেবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যোগসাজশে ভ্যারিয়েশন করে সে কাজগুলো নিজস্ব ঠিকাদারদের মাধ্যমে করিয়ে মোটা অংকের পার্সেন্টেজ বাণিজ্যও করেছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি রেলওয়ে ডাইভারশন উপ বিভাগের পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন আবু সায়েম জুয়েল। সেখানে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডিএমপি’র ডেমরা পুলিশ লাইনসহ বড় বড় ৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান। আরো ২টি বড় প্রকল্প অপেক্ষায় আছে। অতীতের ন্যায় উল্লেখিত প্রকল্পগুলোতে লুটপাটের উদ্দেশ্য নিয়ে এ ডিভিশনে এসেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। কাড়ি কাড়ি টাকা বিভিন্ন পর্যায়ে খরচ করে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন তিনি।
২০২৪ এর ছাত্রজনতার আন্দোলন দমাতে এই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী রামপুরা টিভি সেন্টার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাদের পেছনে প্রায় অর্ধকোটি টাকা খরচ করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি নেতা উপ সহকারী প্রকৌশলী এ এস এম আবু সায়েম জুয়েল সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তা সব মিথ্যা ও বানোয়াট।
প্রধান প্রকৌশলী শামীম আক্তার এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।