জরাজীর্ণ ভাঙা জানালার সামনে কার্টনের একটি অংশ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আর তীব্র এই গরমে ভেতর থেকে ইঁদুরের গন্ধ ছাড়াও পচা র্দুগন্ধ বের হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদে আসা আগত লোকজন উঁকি দিয়ে দেখেই আফসোস করছে। বলছে নানান কথা।
ভেতরে রয়েছে বস্তা বস্তা চাল। ইঁদুরে খেয়ে ফেলায় বস্তার চাল পড়ে রয়েছে ফ্লোরে। এ দৃশ্য দেখা গেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যদের কক্ষে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালগুলো সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা খাত ভিজিডি প্রকল্পের। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও ইউপি সচিবের কক্ষ বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ভবনের দোতলায় থাকা অবস্থিত ইউপির উদ্যোক্তা ও নিচতলায় রাজীবপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের কক্ষটি খোলা পাওয়া যায়। দুটি কার্যালয়ে গেলে সেবা নিতে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগের সুরে বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ইউপি চেয়ারম্যান বা সদস্যরা কার্যালয়ে তেমন একটা আসতেন না। পুরো ভবন ঘুরে কক্ষগুলোর বেহাল দশা দেখে লোকজনের অভিযোগের সত্যতা মেলে।
ভবনের নিচতলার একটি কক্ষে মজুদ করে রাখা চাল সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার হোসেন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
উদ্যোক্তা মো. আক্তার হোসেন বলেন, তার কাছে ভবনের কোনো কক্ষের চাবি নেই। তবে মাঝেমধ্যে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা ইউপি ভবনে এসে কক্ষ খুলে বসেন। তবে সেখানে গ্রাম পুলিশের কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজীবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম মোদাব্বিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে তিনি ইউপিতে যাননি। এসব চাল ইউপি সচিবের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা। তবে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘ভাই আমি তো এখন আর চেয়ারম্যান নাই, লেখালেখি কইরেন না। এটা প্রতিপক্ষরাই ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ‘
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজীবপুর ইউপি সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলার উচাখিলা ইউপি সচিব মো. হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, ‘এই চালের খবর চেয়ারম্যান জানেন। আমি কিছুই জানি না। ‘
ইউনিয়ন পরিষদে আসা জোবেদা বেগম নামের একজন বলেন, ‘নিজের চোখে দেখলাম আমরার চাল কিবায় পচতাছে ও ইন্দুরে (ইঁদুর) খাইতাছে। কেরে আমরারের চাউল দিল না হের বিচার চাই। ‘
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জেনেছি। তিনি বলেছেন, বারবার বলার পরও অনেকেই চাল নেননি। তাই রয়ে গেছে। এখন যদি নষ্ট হয় তাহলে ওই পরিমাণ চাল কিনে দেবেন। ‘ তাহলে আপনার অবস্থান থেকে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান তো আর চাল বিক্রি করে দেননি। ‘
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি দেখার জন্য খাদ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘
সূত্র : কালের কণ্ঠ