পুলিশের অভিধানে ’ক্লুলেস’ বলে একটি শব্দ আছে। আবার অপরাধ বিজ্ঞানে বলা হয়, অপরাধী যত সাবধানীই হোক, ঘটনাস্থলে একটা না একটা ক্লু রেখে যায়।
৬ বছরের একটি শিশুকে ধর্ষণ করেও গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরছিল সন্দেহভাজন ধর্ষক সন্দ্বীপ। কিন্তু ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া গামছার সূত্রে ধরা পড়ে সন্দ্বীপ। গামছার গন্ধ শুঁকে শুঁকে সন্দ্বীপের বাড়ি পৌঁছে যায় পুলিশের ডগ স্কোয়াডের কুকুর মেরি।
ঘটনাটি ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্ভলের বারবালা এলাকার।
গত শুক্রবার বিকেলে ৬ বছর বয়সী শিশুটি তার বাড়ির উঠানে খেলছিল। একই এলাকার সন্দ্বীপ তাকে ফুসলিয়ে বা জোর করে তুলে নিয়ে যায়। দেড়-দুই ঘণ্টা মেয়ের দেখা না পেয়ে মা তাকে খুঁজতে বের হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি পুকুরের পাশে ঝোপের মধ্য থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পরপরই মেয়েটিকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা তার ওপর ধর্ষণের আলামত নিশ্চিত করেন। তবে আতঙ্কিত শিশুটি ঠিকমত কথাই বলতে পারছিল না।
ঘটনার তদন্তে নেমে যেন অকুল পাথারে পরে পুলিশ। একদম ক্লুলেস।
ঘটনাস্থল বা তার আশপাশে কোনো সিসিটিভি নেই। মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার বা পরের কোনো ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। মানুষ পুলিশ ব্যর্থ হলে ডাক পড়ে কুকুর পুলিশের। উত্তর প্রদেশ পুলিশের ডগ স্কোয়াডের অভিজ্ঞ সদস্য মেরি। ঘটনার তৃতীয় দিন রবিবার সকালে ল্যাব্রাডার প্রজাতির কুকুরটিকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি গামছা দিয়ে মাঠে নামানো হয়। গামছার গন্ধ শুঁকে শুঁকে মেরি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যায় ঘটনাস্থল থেকে ৩/৪ শ মিটার দূরে সন্দ্বীপের বাড়িতে। কিন্তু ততক্ষণে সন্দ্বীপ হাওয়া।
পুলিশ সন্দেহভাজন সন্দ্বীপকে গ্রেপ্তার করতে বিশেষ অভিযানে নামে। রাস্তায় চেকপোস্ট বসায়। সোমবার মধ্যরাতে বাবরালা সংলগ্ন একটি চেকপোস্টে পুলিশ যখন ব্যারিকেড দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল, সন্দীপ তখন মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বেপরোয়া সন্দ্বীপ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সন্দ্বীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সাথে সন্দ্বীপের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে পুলিশ থানায় একটি গন্ধ শুঁকে সনাক্তকরণ প্যারেডের আয়োজন করে। প্যারেডে সন্দ্বীপের সাথে আরো কয়েককজনকে লাইনে দাড় করান হয়েছিল। কিন্তু মেরি সবাইকে এড়িয়ে সন্দ্বীপের পাশে গিয়ে বসে পড়লে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা গামছাটি সন্দ্বীপেরই এবং ৬ বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের জন্য সেই দায়ী।
মামলাটি সমাধানে অসামান্য ভূমিকার জন্য সম্ভল জেলার পুলিশ সুপার কৃষাণ কুমার বিষ্ণোই কুকুর মেরিকে নগদ ১০ হাজার রুপি পুরস্কার দিয়েছেন। উত্তর প্রদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মেরি তার ট্রেনিং ব্যাচের গোল্ড মেডেলিস্ট ছিল এবং এর আগেও সাফল্যেল সঙ্গে বেশ কয়েকটি ঘটনা তদন্তে পুলিশকে সহায়তা করেছে।