চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে হেনস্তা ও বিবস্ত্র করে তিনটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- মো. আজিম (২৩), মো. নুরুল আবছার বাবু (২২), মো. নুর হোসেন শাওন (২২), মো. মাসুদ রানা (২২) ও সাইফুল ইসলাম (২২)। তাদের মধ্যে আজিম ও বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
গত শনিবার তাদের দুজনকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বাকি তিনজনের মধ্যে শাওন ও রানা হাটহাজারী কলেজের ছাত্র। মঙ্গলবার তাদের ছাত্রত্ব বাতিলের তথ্য জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অন্যজন সাইফুল হাটহাজারী কলেজের সাবেক ছাত্র।
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্তা করে আসামিরা। তারা ছাত্রীকে বিবস্ত্র করে তিনটি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে এবং শারীরিক সম্পর্কে না জড়ালে সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ওই ছাত্রী অজ্ঞাত পাঁচজনকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপরই নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে এবং শনিবার সন্ধ্যায় র্যাব-৭ পাঁচজনকে আটক করে। তাদের হাটহাজারী থানায় সোপর্দ করার পর হাটহাজারী থানা পুলিশ আসামিদের রবিবার আদালতে সোপর্দ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির পর আদালত দুই দিনের রিমান্ড জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসামিদের দুই দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ সময় ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইবে পুলিশ।