ইরানে ‘চরম আঘাত’ হানার হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
ওয়াশিংটন সময় বুধবার (০১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এ হুমকি দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই, অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে আমেরিকার সমস্ত সামরিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পথে রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।
আমরা খুব শিগগিরই তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।
ইরানে তার প্রধান ‘উদ্দেশ্যগুলো সম্পন্ন হওয়ার পথে’ বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এর মধ্যেও ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে আমাদের নজর গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর রয়েছে। যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে আমরা তাদের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে অত্যন্ত কঠোরভাবে এবং সম্ভবত একইসঙ্গে আঘাত হানব।
তিনি বলেন, আমরা তাদের তেলের ওপর আঘাত করিনি, যদিও সেটিই ছিল সবথেকে সহজ লক্ষ্যবস্তু; কারণ তা করলে তাদের বেঁচে থাকার বা পুনর্গঠনের সামান্যতম সুযোগও থাকত না। কিন্তু চাইলেই সেখানে আঘাত করতে পারতাম, আর তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেত—এবং এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার থাকত না।
ইরান বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং মূলত এটি এখন আর কোনো হুমকি নয় বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
ইরানের নতুন নেতৃত্ব কম উগ্র ও অনেক বেশি যুক্তিবাদী মন্তব্য করে ট্রাম্প বলেন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন (Regime change) আমাদের লক্ষ্য ছিল না।
আমরা কখনোই শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলেনি। তাদের মূল নেতার মৃত্যুর কারণে শাসনব্যবস্থায় একটি পরিবর্তন ঘটেছে। তারা সবাই মৃত। নতুন নেতারা কম উগ্রপন্থী এবং অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য।
প্রায় ২০ মিনিটের ওই ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোকে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘সাহস সঞ্চয় করার’ আহ্বান জানান।
ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় কোনো তেলই আমদানি করে না, এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের এর প্রয়োজন নেই। আর বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পায়, সেই পথটি দেখভালের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।
ইরান যুদ্ধ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই আবার খুলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সংঘাত শেষ হলে প্রণালীটি স্বাভাবিকভাবেই উন্মুক্ত হয়ে যাবে। তারা তেল বিক্রি করতে চাইবে, কারণ পুনর্গঠনের চেষ্টা করার জন্য তাদের কাছে কেবল এটাই আছে। তেলের প্রবাহ আবারও শুরু হবে এবং গ্যাসের দাম দ্রুত কমে আসবে। শেয়ার বাজারের দামও দ্রুতগতিতে আবার বেড়ে যাবে।
সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স