বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী চীনের ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ করতে নতুন একটি বিভাগ চালু করছে বিসিবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘অধীর আগ্রহে’ অপেক্ষায় দিল্লি: দীনেশ ত্রিবেদী ২০২৭ সালের রমজান-ঈদের সম্ভাব্য দিনক্ষণ প্রকাশ ইরানকে ঘিরে ইসরাইল-আমিরাতের গোপন বৈঠক, সহযোগীতা করবে যুক্তরাষ্ট্র হাসপাতালে দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ বোয়িংয়ের ২১ নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

জবাবদিহি ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জনগণের জীবনমানের বাস্তব উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। তাই উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে জনস্বার্থ, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চলমান এবং এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত নতুন প্রকল্পসমূহ পর্যালোচনাপূর্বক প্রকল্পের কার্যপরিধি নির্বাচনী ইশতিহারের সাথে Aligned/Integrated এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে Rescoping করার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করার নিমিত্ত সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

সভার শুরুতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আওতাধীন ২০২৫-২৬ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুসারে প্রকল্প পুনর্বিন্যাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো তুলে ধরা হয়।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নয়, মানুষের জীবনমানের ওপর প্রকৃত প্রভাবকে বিবেচনায় নিতে হবে। জনপ্রিয়তার জন্য নয়, মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কার্যকর হবে—এমন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী পাঁচ, দশ কিংবা পঞ্চাশ বছর পর দেশের উন্নয়নের অবস্থান কোথায় দেখতে চাই, সেই দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি সামনে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকল্প প্রণয়নে আরও সতর্কতা, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পসমূহ সংশোধন, পুনর্বিন্যাস কিংবা সমজাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে একীভূত (Merge) করে বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত সম্পদ। তাই প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা, গুণগত মান এবং ব্যয় দক্ষতার পাশাপাশি জবাবদিহি আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিভাগের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আরও আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। এ খাতে টেকসই ও যুগোপযোগী প্রকল্প গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।

প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিই টেকসই উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে নারী উন্নয়ন ও নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি এসব উদ্যোগ আরও ব্যাপকভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। আঞ্চলিকসংবাদ

সভায় বিশেষ অতিথি প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প পুনর্বিন্যাস ও সংশোধনের মাধ্যমে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে হবে। তিনি প্রকল্পসমূহকে বিষয়ভিত্তিক ক্লাস্টারে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, এতে পৃথক পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত কর্মসূচির ভিত্তিতে মূল্যায়ন, তদারকি ও ফলাফল পরিমাপ করা সহজ হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পল্লী উন্নয়ন খাতে বহু সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। তাই অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করতে হবে, যাতে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়। গ্রামের মানুষকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলেই প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। তিনি জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান আরও উন্নত করতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, তাঁদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি আধুনিক প্রকল্প পরিচালক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মোহাং শওকত রশীদ চৌধুরী, পরিকল্পনা কমিশনের বিভিন্ন বিভাগের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব ও উপসচিববৃন্দসহ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অধীনস্থ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD