বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বোয়িংয়ের ২১ নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা দেশের সব সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত সার্ককে কার্যকর করতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ও নেপালের রাষ্ট্রদূত একমত ইসিকে স্বাধীনভাবে চোখ কান খুলে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি: গোলাম পরওয়ার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম ‘গোমূত্র’ নিয়ে তোলপাড় ভারতের সংসদ হরমুজ নিয়ে ওমানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, কঠোর বার্তা ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আভাস সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই : অ্যাটর্নি জেনারেল এনসিপি-বিএনপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারি

বোয়িংয়ের ২১ নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন গ্রুপ হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। অন্তত দেড় বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে বহরে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি এই এয়ারলাইন্সটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বহরে যুক্ত হবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত শেরাটন ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি বলেন, একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন থেকে শুরু করে এটি আজ বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা নিরাপত্তা এবং মানসম্মত সেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকারের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে আমরা প্রতি বছর ২৪ মিলিয়ন যাত্রী সেবা দিতে সক্ষম হব। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা মেটাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২১টি নতুন বোয়িং বিমান যুক্ত করার সিদ্ধান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পর্যায়ক্রমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ১৪টি নতুন বোয়িং বিমান যুক্ত করছে, যা আমাদের এভিয়েশন খাতের উন্নতি ঘটাবে এবং দেশি-বিদেশি যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করবে।

ওই সময় বাংলা‌দে‌শে নিযুক্ত মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, একজন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরের প্রবৃদ্ধির এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত।

তিনি বলেন, বোয়িং ৭৩৭ বিমান লিজ নেওয়ার এই নতুন চুক্তি—এবং ভবিষ্যতে আরও এয়ারক্রাফট আসা শুধুমাত্র একটি এয়ারলাইন্স বহরের সম্প্রসারণ নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতে একটি বিনিয়োগ। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে শক্তিশালী করবে, পর্যটন ও বাণিজ্যে সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ বলেন, ইউএস-বাংলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িং ব্র্যান্ডকে দেখতে পাওয়া সত্যিই আনন্দদায়ক এবং আমরা এই আয়োজনে অংশ নিতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। আজ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ তারা আধুনিক ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী বোয়িং বিমান অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে পা রাখছে। এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এয়ারলাইন্সের আত্মবিশ্বাস এবং যাত্রীদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি সংযোগ সম্প্রসারণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথের বাজারে এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার বড় একটি অংশ দেশে রাখা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়; বরং ইউএস-বাংলাকে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্লোবাল এভিয়েশন গ্রুপে পরিণত করা। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি, কার্গো, এমআরও, ফ্লাইট ক্যাটারিং এবং এভিয়েশন প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত এভিয়েশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক নীতিমালা, দক্ষ জনবল সৃষ্টি, আধুনিক এমআরও সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা ইতোমধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এবং বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলছে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD