শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

ঝিনাইদহে ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা বসাতে শিক্ষকদের থেকে টাকা নিয়েছেন ইউএনও

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বিরুদ্ধে। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় উপজেলার ৪৩ ভোটকেন্দ্রে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত টাকায় ক্যামেরা বসানো হয়। নির্বাচনের পর শিক্ষকদের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও কবে নাগাদ তা ফেরত দেওয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না ইউএনও। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ টাকা দেওয়া শিক্ষকরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঝিনাইদহ-৩ আসনের (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা) মহেশপুরে ১১২ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৬৯ সিসি ক্যামেরা বসাতে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু ভ্যাট-ট্যাক্স বাদ দেওয়ার পর বরাদ্দ দাঁড়ায় ১৯ লাখ টাকা। এ টাকায় ৫৫ কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানোর ব্যয় মেটানো সম্ভব। বাকি ৪৩ কেন্দ্রে সরকারি বরাদ্দ ছাড়াই ক্যামেরা বসানো হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি স্কুলে ক্যামেরা বসানোর ব্যয় বহন করতে হয়েছে প্রধান শিক্ষকদের। এজন্য নিজস্ব অর্থ ব্যয় করেছেন তারা। প্রতি কেন্দ্রে ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি স্থাপনে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি কেন্দ্রে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে—এমন আশ্বাসে তাদের ডাকা হয়। কিন্তু টাকা না দিয়েও প্রাপ্তি স্বীকার রসিদে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

মালিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাবুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত ক্যামেরা বসানোর তাগাদা দেওয়া হয়। পরে টাকা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা পাননি।

পীরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতার স্বার্থে কাজ করেছেন, কিন্তু এখন নিজের পকেটের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

নেপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, ধারদেনা করে ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। এখনো অর্থ ফেরতের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

মহেশপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইউএনওর নির্দেশনায় শিক্ষকরা ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। বিভিন্ন খাত থেকে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ টাকা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৬৯ কেন্দ্রে সরকারিভাবে ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা ছিল। বাকি কেন্দ্রগুলো অরক্ষিত থাকায় শিক্ষকদের উদ্যোগে ক্যামেরা বসানো হয়। বরাদ্দ না আসায় প্রাথমিকভাবে স্কুলের স্লিপ ফান্ড থেকে সমন্বয়ের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপাতত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ১০ হাজার এবং মাধ্যমিক ও মাদ্রাসাগুলোকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ নেওয়া হলেও এখনো অর্থ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। পর্যায়ক্রমে টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD