বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের পথ সুগম করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ইরান সরকার। তারই অংশ হিসেবে প্রণালিটি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ভাবছে তেহরান। যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিবহনে মার্কিন আধিপত্য কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শনিবার সংবাদ সংস্থা সিএনএনকে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতসংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে তেহরান।
তবে এক্ষেত্রে একটি শর্ত রাখা হবে—তেলের দাম দিতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে।
ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ
সাধারণত বিশ্ববাজারে তেলের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারে হয়ে থাকে। শুধুমাত্র পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ার তেলের লেনদেন চলে রুবল বা ইউয়ানে।
সিএনএন জানিয়েছে, তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য চীন বহু বছর ধরে চেষ্টা করে আসছে।
তবে ডলার এখনো বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে প্রাধান্য ধরে রেখেছে। ইউয়ানের বিনিময়ে তেল বাণিজ্যের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গতিশীলতায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
ট্রাম্পের হুমকি
পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিলে ইরানের খারগ দ্বীপের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ওই দ্বীপের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রিত হয় এই খারগ দ্বীপ থেকে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
২০২২ সালের জুলাইয়ে তেলের দাম সর্বোচ্চ ছিল। কিন্তু বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার ফলে ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাপিয়েছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এতে করে বিশ্বে ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল থাকা জ্বালানি তেলের বাজার ও শেয়ারবাজার আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধানিষেধ জারি হলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার কাজে বিরাট প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মানবিক বিষয়-সংক্রান্ত আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার বলেন, এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল থমকে গেলে তার ফল হবে সুদূরপ্রসারী। খাদ্য, ওষুধ ও সারের মতো জরুরি সামগ্রী সরবরাহ করা যেমন কঠিন হয়ে পড়বে, তেমনই বাড়বে এসবের পরিবহন খরচও।