খুলনায় সরকারি-বেসরকারি মিলে দুই ডজনের বেশি হাসপাতালে ৩০০-এর মতো ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থাকছে।
বেসরকারি হাসপাতালে আলাদা ইউনিট করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের শয্যাসংখ্যা ৪০টি। গতকাল সেখানে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিল ১৪৬ জন। রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় নিচ তলায় জরুরি বিভাগে আলাদা ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একইভাবে খুলনা সদর হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগে ২৫টি শয্যার বিপরীতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছে ৬৫ জন। শয্যা খালি না থাকায় অনেককে ফিরে যেতে হয়।
খুলনা সিটি করপোরেশনে ভেটেরিনারি অফিসার ড. পেরু গোপাল বিশ্বাস বলেন, বাসাবাড়িতে টব বা ছাদ বাগানে গাছের ড্রামে, খোলা জায়গায় থাকা ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে দেখা দিয়েছে। সচেতন না হওয়ায় নিজেরাই নিজেদের চারপাশে এডিস মশার বংশ বিস্তারে সহায়তা করছি। চিকিৎসকরা বলছেন, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। আগস্টে শুরু থেকে পরিস্থিতি ভয়ানক হতে থাকে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ১১৪ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪২০ জন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৭৩ জন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৩০৫ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১২ জন। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, হাসপাতাল ঘুরে পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে আঁতকে উঠেছি। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা ফাঁকা নেই। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। এই কাজে আমরা নগরবাসী ও সরকারের সহযোগিতা চাই।
রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাজেদুল হক কাওছার বলেন, এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করতে ছাদে ফুলের টবে ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। এই পানি না পেলে মশা ডিম পাড়তে পারবে না।